রাজধানী

পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে পাঁচ ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার অভিযোগ

 শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

কাউন্দিয়া শহীদ স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রীকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং যথাযথ তদন্ত ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাবা, ফারিয়া, শান্তা, তাথৈ ও আনিকাসহ পাঁচ ছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে টিসি দেওয়া হয়েছে। তবে কী অপরাধে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
ছাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের কাউকে প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কারও বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়ানো হয়ে থাকলে, সে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত করা কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আগামী এক মাসের মধ্যেই তাদের ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাঁচ ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ছাত্রীদের দাবি, তামান্নাতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং সেখানে আসাদুল হক মামুনের সঙ্গেও তাদের দেখা হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সেখানে ঘুরতে গিয়েছিল। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের বক্তব্য অসত্য প্রমাণিত হলেও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা জরুরি। কোনো শিক্ষার্থী অপরাধে জড়িত থাকলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে তদন্ত ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।
এ অবস্থায় ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত, ছাত্রীদের শিক্ষার অধিকার সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বলি না হয়—এটাই সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশা।
বিস্তারিত থাকছে দ্বিতীয় পর্বে।

Leave a Reply