আন্তর্জাতিক

গাজায় ক্ষুধা-অপুষ্টিতে ৫১ শিশুর মৃত্যু

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মারাত্মক অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় ভুগে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানায়। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস বলছে, অপুষ্টিজনিত কারণে এ পর্যন্ত অন্তত ৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ সাবধান করে বলেছে, গাজার পাঁচ বছরের কম বয়সী তিন লাখ ৩৫ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টির কারণে মৃত্যুর মুখে রয়েছে।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রধানরা বলেছেন, মানবিক সাহায্যের ওপর ইসরায়েলি অবরোধ এবং নির্মম বিমান হামলার ফলে গাজার ফিলিস্তিনি শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি বিভাগের প্রধান মাইক রায়ান বলেছেন, এক হাজার জনেরও বেশি শিশু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়েছে, হাজার হাজার শিশু মেরুদণ্ড এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছে, যা থেকে তারা আর কখনো সুস্থ হবে না এবং অনেকেই মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের জিজ্ঞাসা করতে হবে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন তা পূরণ করার জন্য কতটা রক্ত ​​যথেষ্ট? আমরা আমাদের চোখের সামনেই এই ঘটনা ঘটতে দেখছি এবং আমরা এ বিষয়ে কিছুই করছি না।’ মাইক রায়ান আরো বলেন,

‘আমরা গাজার শিশুদের দেহ ও মন ভেঙে দিচ্ছি।

আমরা গাজার শিশুদের অনাহারে রাখছি। আমরা এর সঙ্গে জড়িত। একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি ক্ষুব্ধ। এটি একটি জঘন্য কাজ।

২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় মানবিক সাহায্য সরবরাহে বাধা দিয়েছে ও দিচ্ছে এবং ২ মার্চ থেকে সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করেছে। তার পর থেকে জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করে দিয়েছে যে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় স্থলভাগে মানবিক বিপর্যয় ঘটছে এবং এই সপ্তাহে বলা হয়েছে যে গাজার শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টির অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় হামলায় এ পর্যন্ত ৫২ হাজার ৪৯৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন এক লাখ ১৮ হাজারের বেশি মানুষ।
নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply