খেলাধুলা

জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ও ১০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারাল বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের নায়কোচিত অলরাউন্ড নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ১০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ।

বুধবার (৩০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন ছিল। যেখানে মিরাজের দারুণ সেঞ্চুরিতে ভর করে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪৪৪ রান করে বাংলাদেশ। ২১৭ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা। এরপর মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণি জাদুর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে পাঠানো তো দূরের কথা, থামে ১১১ রানে। এতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ টাইগাররা শেষ করেছে ১-১ সমতায়। ঘরের মাঠে টানা ছয় টেস্ট হারের পর জিতলো বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের ২২৭ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ৪৪৪ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। ফলে লিড পায় ২১৭ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামদের তোপে ৪৬.২ ওভারে ১১১ রানেই গুটিয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে।

দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নামা জিম্বাবুয়ে শিবিরে শুরুতেই আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে সেকেন্ড স্লিপে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানান বাঁহাতি স্পিনার।

ওই ওভারের তৃতীয় বলে নতুন ব্যাটার নিকোলাস ওয়েলচকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাইজুল। এতে দলীয় ৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। এরপর শন উইলিয়ামস (৭) দ্বিতীয় স্লিপে সাদমানের হাতে ধরা পড়েন নাঈম হাসানের বলে।

চতুর্থ উইকেটে ১১১ বলে ৪৭ রানের প্রতিরোধগড়া জুটি গড়েন ক্রেইগ আরভিন আর বেন কারেন। অবশেষে এক ওভারে জোড়া শিকার করে জিম্বাবুয়েকে আবারও বিপদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

৩০তম ওভারের প্রথম বলে মিরাজ বোল্ড করেন ক্রেইগ আরভিনকে (২৫), শেষ বলে এলবিডব্লিউ হন ওয়েসলে মাদভেরে (০)। নিজের পরের ওভারে আরও এক শিকার মিরাজের। এবার তার ঘূর্ণিতে শর্ট লেগে এনামুল বিজয়ের হাতে ক্যাচ তাফাজওয়া টিসিগা (০)। ৭৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে জিম্বাবুয়ে।

মিরাজ এখানেই থেমে থাকেননি। ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে ১০ রানে এবং জিম্বাবুয়ের শেষ ভরসা বেন কারেনকে দুর্দান্ত টার্নে উইকেটরক্ষক জাকের আলীর ক্যাচ বানান এই অফস্পিনার। লড়াকু বেন কারেন ১০৩ বলে করেন ৪৬ রান।

৯৮ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর লেজের ব্যাটাররা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও কাজ হয়নি। দিনের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর আর মাত্র একটি উইকেট বাকি ছিল জিম্বাবুয়ের। আম্পায়াররা সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। বেশি সময় লাগেনি। ভিনসেন্ট মাসেকেসাকে সরাসরি থ্রোতে মুমিনুল হক রানআউট করলে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ রানে শিকার করেন ৫টি উইকেট। ৪২ রানে ৩ উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম। বাকি এক উইকেট নাঈম হাসানের।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply