ফরিদপুরের মধুখালীতে নিখোঁজের দুই দিন পর শেখ আল কালাম আজাদ (৬১) নামের এক মাদরাসা শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আল কালাম আজাদের দ্বিতীয় স্ত্রী তিথি আক্তার (২৮), তার শাশুড়ি ও মেগচামীর খালপাড়ি গ্রামের সোহরাব শেখের ছেলে রাসেল শেখ (২৮) নামের তিনজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের কঠুরাকান্দি বিলসংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে ওই শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত রবিবার সন্ধ্যায় তিনি মধুখালী থেকে পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার কাদিরদী বাজার এলাকায় তার সর্বশেষ লোকেশন পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানায়।
নিহত শেখ আল আজাদ মধুখালীর মেগচামী ইউনিয়নের চরবামুন্দি ইয়াসিন আলী দাখিল মাদরাসার ইংরেজি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন। তিনি উপজেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ শিমুলের বাবা।
নিহত শিক্ষকের ছেলে তানভীর আহমেদ শিমুল জানান, গত রবিবার সন্ধ্যার দিকে মধুখালীর বিলআড়ালিয়া বাজার থেকে নিখোঁজ হন বাবা। এ ঘটনায় পরের দিন সোমবার মধুখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।
তার বাবাকে একটি মোটরসাইকেলে করে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর লাশ ফেলে রেখে যায় হত্যাকারীরা বলে তিনি দাবি করেন।
থানাসূত্রে জানা যায়, জিডির সূত্র ধরে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আল কালাম আজাদের দ্বিতীয় স্ত্রী তিথি আক্তার (২৮), তার শাশুড়ি ও মেগচামীর খালপাড়ি গ্রামের সোহরাব শেখের ছেলে রাসেল শেখ (২৮) নামে তিনজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়।
আটককৃতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দ্বিতীয় স্ত্রীর পরকীয়ার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থল থেকে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান বলেন, এখনই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। লাশ ময়নাতদন্ত করতে মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তদন্তের জন্য এখনই সব কিছু বলছি না।






