সারাদেশ

খুঁটিতে বেঁধে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে বিএনপি কর্মীকে হত্যা, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৭

ফেনীর সোনাগাজীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবুল হাশেম (৫৫) নামের এক বিএনপিকর্মীকে খুঁটিতে বেঁধে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি বোরকা, একটি দা, দুটি রক্ত মাখা রড, একটি ওড়না, তিন প্যাকেট বিস্কুট উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ও বুধবার নোয়াখালী ও সোনাগাজীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বুধবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আক্তার হোসেন (৩৫), রাকিব (২৫), সোলেমান (৪৫), শেখ রাসেল (৩০), শিপন (৩০), বেলায়েত হোসেন (৩০) ও আবুল হোসেন (৪৬)।

পুলিশ সূত্র জানায়, জমির বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খুন হওয়া আবুল হাশেম গংদের সঙ্গে একই গ্রামের আমির হোসেন ননা গংদের দ্বন্দ্ব চলছিল। উভয় পরিবারের দ্বন্দ্বে ২০২১ সালের ৩১ মে আমির হোসেনের ভাই কৃষক বেলাল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় আমির হোসেন বাদী হয়ে হাশেমসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলে হাশেমসহ অপর আসামিরা গ্রেপ্তার হন।

দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরেন। জুলাই আন্দোলনে ফেনীর একটি হত্যা মামলায় আমির হোসেনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় তিনি আদালত থেকে জামিন নেন। এ ঘটনায় হাসেম গংকে দায়ী করেন তিনি।

এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে।

মঙ্গলবার ভোর ছয়টার দিকে হাশেম মোটরসাইকেলে সোনাগাজী পৌর শহর থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে গেলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ১০-১৫ জন বোরকা পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সড়কের ওপর রশি ফেলে হাশেমের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করলে তিনি পড়ে যান। সেখানে রাস্তার পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাম হাত ও পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে তারা। পরে তাকে সড়কে ফেলে চলে যায় হামলাকারীরা।

এ ঘটনায় সোনাগাজীর চরদরবেশ ও নোয়াখালীর চরজব্বার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া বেলায়েত হোসেনকে দাগনভুইয়া থেকে এবং আবুল হোসেনকে চর দরবেশ গ্রাম থেকে বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয়। আক্তার ও রাকিবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলের পাশ থেকে তিনটি বোরকা, রক্তমাখা দুটি লোহার রড, একটি দা ও ওড়না উদ্ধার করে পুলিশ।

এ দিকে নিহতের বাবা আব্দুস শুক্কুর বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচজনকে আসামি করে সোনাগাজী থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি বায়েজিদ আকন বলেন, বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply