শনিবার (১৯ এপ্রিল) কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট পল্লীর ব্যবসায়ী মো. সজিব বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় এই মামলা দায়ের করে।
মামলার এজাহারে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট পল্লীর নুরুন্নাহার মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডের প্যান্ট ক্লাব নামক একটি তৈরি পোশাকের দোকানের স্বত্বাধিকারী মো. সজিব নতুন আরেকটি দোকান নিয়ে ডেকোরেশন করার সময় কানন শিকদার তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
পরে চাঁদা না পেয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কানন শিকদার ও তার সহযোগী লিখন, আবু বক্কর, ফয়সাল, আলাউদ্দিনসহ ২০-২৫ জনের একটি বাহিনী নিয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সজীব ও তার বড় ভাই রাজীবকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে ঢুকে মারধর করে। এ সময় তারা দুই ভাইকে মারধর করে তাদের গলায় থাকা দুটি স্বর্ণের চেইন একটি ওয়ান প্লাস মোবাইল ও ক্যাশ বাক্সে থাকা দেড় লাখ নগদ টাকা নিয়ে যায়।
হামলার ঘটনার একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তাৎক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইন বিভিন্ন মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। হামলার সময় কিল-ঘুষিতে সজীবের সামনের দুটি দাঁত ভেঙে যায় ও তার বড় ভাই রাজিবকে হকিস্টিক ও রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। পরবর্তীতে তাদেরকে উদ্ধার করে সজীবকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও বড় ভাই রাজিবকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সজিব রবিবার সাংবাদিকদের জানান, কানন শিকদারের সঙ্গে আমার কোনো ব্যবসায়িক বা পারিবারিক বিরোধ নেই।
কি কারণে সে হঠাৎ করে চাঁদা দাবি করে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করল তা বুঝতে পারছি না। হামলার ঘটনার পর থেকে জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে আমি ও আমার বড় ভাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি না।
হামলা প্রসঙ্গে জানতে অভিযুক্ত কানন শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি সজীবের বড় ভাই রাজীবের কাছে ব্যবসায়িকভাবে টাকা পাওনা আছি সেই টাকা চেয়েছি, কোনো চাঁদা চাইনি। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে তাদের দোকানের সামনে একদিন ঝগড়া হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় কোনো মারামারি বা ভাঙচুর হয় নাই।
এ ঘটনায় তারা চাঁদাবাজির মামলা করে থাকলে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তাদের কাছ থেকে আমি কোনো চাঁদা চাইনি।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাজারুল ইসলাম জানান, থানায় মামলা রেকর্ড করার পর আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।






