সারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে আমগাছ দেখতে গিয়ে হামলার শিকার, আহত ৫

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারীস্থ ঐতিহাসিক আমগাছ দেখতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে এক পরিবার। শনিবার দুপুরে হামলার এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, মাত্র ২০ টাকা বেশি চাওয়াকে কেন্দ্র করে নাগরদোলায় চড়তে আসা পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করে নাগরদোলা চালক ও তার সঙ্গীরা।

আহতরা হলেন, মো. আলী হোসেন (৩৩), তার বোন মোছা. অনামিকা (১৯), স্ত্রী মোছা. ময়না বেগম (২৩), কলি বেগম (৪৫), সনিয়া (২৬), মো. মান্নান (২৮), মো. রাহুল (১৯) এবং মো. সাব্বির (২২)।

এদের মধ্যে সাব্বির হোসেনের মাথা ও শরীরে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং সনিয়ার হাত ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আহতদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. আলী হোসেন জানান, দুপুরে পরিবারের ৮ সদস্যকে নিয়ে হরিণমারীর আমগাছ দেখতে যান। আমগাছ দেখা শেষে তারা স্থানীয় এক নাগরদোলায় চড়েন।

১০ পাক ঘোরার পর নাগরদোলা চালক মো. সাইদুল মোল্লা (৩৫) নির্ধারিত ৮০ টাকার ভাড়া স্থলে ১০০ টাকা দাবি করেন। এর প্রতিবাদ করলে সাইদুল লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। পরিবারের সদস্যরা আলী হোসেনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সাইদুল ও অজ্ঞাত পরিচয় ২৫-৩০ বছর বয়সী আরও ৭-৮ জন তাদের ওপর হামলা করে। তিনি বলেন, হামলাকারীরা আমাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও সোনার চেইন লুট করেছে।

 

এদিকে, এই ঘটনার পর দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক আমগাছ দেখা বয়কটের ডাক দিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছ মালিকের স্বেচ্ছাচারিতা ও তাদের লোকজনের দুর্ব্যবহার দীর্ঘদিনের।

অন্যদিকে, একই এলাকার আমজানখোর ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গাছের মালিক ও তাদের মদদে স্থানীয় কিছু চাঁদাবাজ প্রায়ই দর্শনার্থীদের মোবাইল ও টাকা ছিনতাই, নারীদের উত্ত্যক্ত এবং ফেনসিডিল, গাঁজা ও বিদেশি মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের বিক্রি ও দালালদের দৌরাত্ম্য চলে। বছরে প্রায় ১০-১২ লাখ দর্শনার্থী এই গাছ দেখতে আসেন এবং টিকিট বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়। সরকারি নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে একদিকে যেমন রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে, তেমনি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত সরকার বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি।

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কুমার দেবনাথ বলেন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় এমন একটি দর্শনীয় স্থানে এই ঘটনাটি খুব নিন্দনীয়। এর বিরুদ্ধে আমরা শতভাগ ব্যবস্থা নিব।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply