সারাদেশ

নারায়ণগঞ্জ কারাগারে মাদকবিরোধী সভা, ৫০ বন্দির কর্মমুখী প্রশিক্ষণ শুরু

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এ সভায় বন্দিদের মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি কারামুক্তির পর আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়তে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবিরের প্রধান অতিথিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলসুপার আব্দুল কুদ্দুছের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সার্বিকভাবে তত্ত্বাবধান করেন কারাগারের জেলার শেখ মো. রাসেল।

আলোচনা সভায় বক্তারা মাদক মামলায় কারাগারে আসা বন্দিদের মাদকের ভয়াবহতা ও ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনযাপনের জন্য ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি এবং আত্মশুদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির মাদকের শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক ও আইনগত ক্ষতিকর দিক নিয়ে বন্দিদের সচেতন করেন।

তিনি বলেন, মাদক সেবনের ফলে লিভার, কিডনি ও ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। হেপাটাইটিসের মতো জটিল রোগের আশঙ্কাও থাকে। পাশাপাশি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয় এবং বিষণ্নতা, ক্রোধ ও মানসিক ভারসাম্যহীনতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মাদকের কারণে পরিবারে অশান্তি তৈরি হচ্ছে এবং সামাজিক অপরাধও বাড়ছে। চুরি, ছিনতাই, সহিংসতা ও হত্যার মতো অপরাধের পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারেও মাদকের ভূমিকা রয়েছে। মাদকের কারণে ব্যক্তি ও পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে দুর্দশায় পতিত হয় এবং মাদক ব্যবসা ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িয়ে আইনগত জটিলতায় পড়লে সামাজিক মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হয়।

পরে জেলা প্রশাসক বন্দিদের মাদক পরিহারের শপথ পাঠ করান। সভা শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য পরিচালিত ৬০ ঘণ্টার গার্মেন্টস প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ৫০ জন বন্দিকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় গার্মেন্টসে উৎপাদিত পণ্যের লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ উৎপাদন কাজে নিয়োজিত বন্দিদের দেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

বক্তারা বলেন, কারাগারে বন্দিদের শুধু সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই নয়, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বন্দিরা কারামুক্তির পর সমাজে পুনর্বাসিত হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

এ ছাড়া কারাগারে বন্দিদের নিয়ে বই পর্যালোচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বন্দিরা কারা লাইব্রেরি থেকে বই সংগ্রহ করে পড়ে লিখিত পুস্তক সমালোচনা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply