সারাদেশ

সোনারগাঁয়ে নদীতে ডুবে ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, বাল্কহেডসহ আটক ৪

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে ৩ স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বাল্কহেডসহ ৪ জনকে আটক করেছে নৌপুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। নিহত যমজ ২ ভাইয়ের বাবা মোহাম্মদ ফারুক বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- বাল্কহেড এমবি সোনারগাঁ মদিনা-৪ এর সুকানি মো. হাবিবুর রহমান (৪৫), গ্রিজার মো. আবু জাফর (৩৫), লস্কর এবাদুল হাওলাদার (২৫) ও মো. সিফাত (১৯)। বাল্কহেডটির নম্বর ০১-১০৭৭। এটি মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজের। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ হোসেন মিয়া ও সুজিত কুমার সাহা।

সোনারগাঁ থানার বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশের পরিদর্শক রুহুল আমিন বলেন, ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বাল্কহেডসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। নিহত যমজ ২ শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ ফারুক বাদী হয়ে মামলা করবেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা মেঘনা নদীতে যেখানে বাল্কহেডটি থামানো ছিল, সেখানে গোসল করছিল। বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করার পর নদীর পানিতে প্রচণ্ড ঘূর্ণি তৈরি হয়। এ সময় একজন নারী টান দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে পারলেও অন্য ৩ জন পানিতে তলিয়ে যায়। বাল্কহেড ও আটক ৪ জনের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

রোববার দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটি বন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে তলিয়ে যায় ৩ স্কুলছাত্র। নিহতরা হলো— মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিশ এলাকার মোহাম্মদ ফারুকের জমজ ছেলে আরেফিন আহমেদ (১৫) ও আশেকিন আহমেদ (১৫) এবং একই এলাকার আবদুল আলীমের ছেলে আবিদ হোসেন (১৪)। তারা মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ৩ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জন জমজ ভাই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাল্কহেডের পাখার সঙ্গে ধাক্কা লেগে শিক্ষার্থীরা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা বাল্কহেডে উঠে নদীতে গোসল করছিল। একপর্যায়ে তারা নদীতে লাফিয়ে পড়লে বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করা হয়। এতে ইঞ্জিনের পাখার আঘাতে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন ইঞ্জিন বন্ধ করতে বললেও বাল্কহেডের কর্মীরা তা করেননি এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি।

বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে আরেফিন ও আশেকিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে আবিদের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

এদিকে, নিহত ৩ শিক্ষার্থীর মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাড়ি মজলিশ হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে বাড়ি মজলিশ সামাজিক কবরস্থানে যমজ ২ ভাই আরেফিন আহমেদ ও আশেকিন আহমেদের মরদেহ দাফন করা হয়। অপর নিহত আবিদ হোসেনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি খুলনায় নিয়ে দাফন করা হয়েছে।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply