ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী কসবা থানায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ আলী মোহাম্মদ রাশেদ। জুলাই ২০২৬ মাসের সার্বিক কর্মমূল্যায়নের ভিত্তিতে তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।
১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপারের কাছ থেকে তিনি শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জের পুরস্কার গ্রহণ করেন। একই অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিশেষ সাফল্যের জন্য কসবা থানার এএসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ উজ্জল হক আকন্দ শ্রেষ্ঠ উদ্ধারকারী কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কৃত হন।
সীমান্তবর্তী থানা হিসেবে কসবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তের বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে মাদক কারবারিদের মাদক প্রবেশের অপচেষ্টা পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এমন বাস্তবতায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা ও অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে কসবা থানা পুলিশ।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কসবা থানার এ কার্যক্রম ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু অভিযান নয়, পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কসবা থানা পুলিশের ধারাবাহিক কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে।
পুরস্কার অর্জনের পর কসবা থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ স্বীকৃতি কোনো একক ব্যক্তির নয়; বরং থানার প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার ফল। থানার গৌরব ও সুনাম বৃদ্ধিতে অবদান রাখায় পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
এদিকে কসবা থানার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশের কার্যক্রমে সাংবাদিকদের সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি এমন সম্মান ও স্বীকৃতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে পুলিশ ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। এ ধরনের পুরস্কার একজন দক্ষ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাকে যেমন আরও উৎসাহিত করে, তেমনি পুরো টিমকে জননিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
তাদের প্রত্যাশা, অফিসার ইনচার্জ আলী মোহাম্মদ রাশেদের নেতৃত্বে কসবা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমের এই ইতিবাচক ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পুলিশ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
শ্রেষ্ঠ ওসির এই অর্জন কসবা থানার জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি মাদকের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়ার একটি অনুপ্রেরণাদায়ক স্বীকৃতি।
Home » মাদকের অন্ধকার ঠেকাতে সীমান্তে সাহসী পদক্ষেপ—শ্রেষ্ঠ ওসির সম্মাননায় গর্বিত কসবা
মাদকের অন্ধকার ঠেকাতে সীমান্তে সাহসী পদক্ষেপ—শ্রেষ্ঠ ওসির সম্মাননায় গর্বিত কসবা
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
তিনি একাই প্রতারণার ১৩০ মামলার আসামি!
August 19, 2026






