আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন:
“তোমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ এবং সম্মানিত (হারাম) মাসসমূহের মর্যাদা লঙ্ঘন করো না।”
(সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ২)
ব্যাখ্যা:
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর নির্ধারিত পবিত্র বিষয়গুলোর যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। এসবের অন্তর্ভুক্ত হলো হারাম মাসসমূহ, যার মধ্যে মহররম অন্যতম। আল্লাহ তাআলা এ মাসকে বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন।
হারাম মাসের মর্যাদা রক্ষা করার অর্থ হলো, এ সময়ে মুসলিমদের বিশেষভাবে গুনাহ, জুলুম, অবিচার এবং সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা। যদিও সারা বছরই আল্লাহর আনুগত্য করা ফরজ, তবুও হারাম মাসগুলো হলো এমন বিশেষ সময়, যখন মুমিনদের ইবাদত বৃদ্ধি, ঈমানকে আরও সুদৃঢ় করা এবং নেক আমলে জীবন সমৃদ্ধ করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়।
মহররমের মর্যাদা রক্ষা শুধু গুনাহ থেকে বিরত থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এ মাসকে দয়া, সহমর্মিতা, উদারতা এবং মানবসেবার মাধ্যমে অর্থবহ করে তোলাও এর অন্তর্ভুক্ত। এই পবিত্র মাস আমাদের নিজেদের গণ্ডির বাইরে তাকাতে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করে।
যাদের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের মধ্যে রয়েছে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষ, যারা জানেন না তাদের পরবর্তী আহার কোথা থেকে আসবে। রয়েছে এতিম শিশু, যারা পিতা-মাতার স্নেহ ও পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত। রয়েছেন বিধবা নারীরা, যারা একাই পরিবারের দায়িত্ব বহন করছেন। রয়েছেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা, যারা প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন এবং অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। এছাড়া রয়েছেন মাদরাসার সেই সব শিক্ষার্থী, যারা সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও কুরআন শিক্ষা ও ইসলামী জ্ঞান সংরক্ষণে নিজেদের নিবেদিত রেখেছেন।
মহররম মাসে ক্ষুধার্তকে খাদ্যদান, দান-সদকা, শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা এবং অসহায় মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগের মাধ্যমে মুসলমানরা এ পবিত্র মাসের যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করতে পারে। এ ধরনের আমল ঈমানকে বাস্তব সেবায় এবং ইবাদতকে মানবকল্যাণে রূপান্তরিত করে।
এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পবিত্র সময়গুলো যেন সাধারণ দিনের মতো অতিবাহিত না হয়। বরং এগুলোকে তাওবা, দোয়া, রোজা, দান-সদকা এবং মানুষের প্রতি সহমর্মিতার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করা উচিত। আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর সৃষ্টির সেবার মাধ্যমে হারাম মাসের মর্যাদা রক্ষা করলে বান্দা মহান প্রতিদান লাভ করতে পারে এবং আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টির আরও নিকটবর্তী হতে পারে।
ড. ইঞ্জি. এইচ. এম. রমজান পাশা
ইসলামী গবেষক ও সমাজ সেবক






