ফুটপাতজুড়ে অবৈধ দোকান, বাড়ছে যানজট ও জনভোগান্তি; অভিযোগ উঠেছে নিয়মিত অর্থ আদায়ের, প্রশ্নের মুখে নগর ব্যবস্থাপনা
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন কেন্দ্র মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন এলাকা বর্তমানে অবৈধ ফুটপাত দখল, জনদুর্ভোগ এবং তীব্র যানজটের এক প্রকট উদাহরণে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পথচারীদের জন্য নির্মিত ফুটপাতের বড় অংশজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকান, ভ্রাম্যমাণ স্টল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিদিন হাজারো সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও যাত্রীকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনের বিভিন্ন প্রবেশ ও বহির্গমন পথ সংলগ্ন ফুটপাতজুড়ে পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, ফলমূল, খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসানো হয়েছে। কোথাও কোথাও ফুটপাত সম্পূর্ণ দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন ব্যবহার করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু ফুটপাত দখল ও বিশৃঙ্খল অবস্থার কারণে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, স্টেশনে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় দীর্ঘক্ষণ জটের মধ্যে পড়তে হয়। ফলে কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও বিভিন্ন মহলের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ বাণিজ্য অব্যাহত থাকায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অভিযানও স্থায়ী ফল বয়ে আনতে পারছে না। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মেট্রো স্টেশন এলাকায় দিনের পর দিন ফুটপাত দখল হয়ে থাকলেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা মনে করেন, মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে পুরো এলাকা।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত স্থান অবৈধভাবে দখল হয়ে গেলে নাগরিক জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। এতে শুধু পথচারীর দুর্ভোগই বাড়ে না, নগর ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তাদের মতে, পরিকল্পিত নগর গঠনের জন্য ফুটপাত পথচারীদের কাছেই ফিরিয়ে দিতে হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি রাস্তা ও ফুটপাত দখল, জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং অবৈধ অর্থ আদায়—এসব কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ফুটপাত দখলের কারণে যখন মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কে চলাচল করতে হয়, তখন তা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।
সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন সকল ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগকৃত অর্থ আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন এলাকার শৃঙ্খলা ও জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এখন শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি জরুরি নাগরিক প্রয়োজন।






