শুক্রবার, ২৯ মে—বিশ্ব শান্তিরক্ষা দিবস। এই বিশেষ দিনে বিশ্বের সকল বর্তমান ও সাবেক শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এক সেনাসন্তান ও সেনাবাহিনীর বোন।
তিনি জানান, তাঁর মরহুম পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোন্তাজ মোল্লা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৩ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন গর্বিত সদস্য ছিলেন। সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও অসামান্য অবদান রাখেন। এশিয়ান গেমসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে অ্যাথলেটিকসে স্বর্ণপদক অর্জনের মাধ্যমে তিনি দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন।
খেলাধুলার জগতে তাঁর অবদান শুধু প্রতিযোগিতাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি রাজধানী ঢাকার মিরপুর-২-এ অবস্থিত শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অ্যাথলেটিক্স কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রশিক্ষণে গড়ে উঠেছেন অসংখ্য বর্তমান অ্যাথলেট। নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতেও তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ একজন মানুষ।
দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে তিনি অবসরে যান এবং ২০২২ সালের ১৫ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারসহ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
অন্যদিকে তাঁর ভাই মোঃ ইমরান মোল্লা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৬ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য ছিলেন। সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি “২৬ বেঙ্গল” দলের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। ২০০৮ সালে তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পরও তিনি সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। বিশেষ করে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করা এবং তরুণদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতেও তাঁর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে তিনি দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ি এলাকায় “মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোন্তাজ ক্রীড়া স্মৃতি ফুটবল ক্লাব”-এর মাধ্যমে এলাকার তরুণদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন।
আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন— “একজন সেনাসদস্যের জীবন শুধু দায়িত্ব পালন নয়, এটি দেশপ্রেম, ত্যাগ ও মানবতার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার নাম। বাবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও শান্তিরক্ষা মিশনের স্মৃতি তখন হয়তো ছোট ছিল, কিন্তু বড় হয়ে বুঝেছি—আমার পরিবারও দেশের সেবায় এক গৌরবময় অধ্যায় রচনা করেছে।”
তিনি আরও বলেন— “আমার ভাইয়ের প্রতিষ্ঠিত মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোন্তাজ ক্রীড়া স্মৃতি ফুটবল ক্লাব শুধু একটি ক্লাব নয়; এটি তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ, সুন্দর ও আলোকিত জীবন গঠনের একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম।”
বিশ্ব শান্তিরক্ষা দিবসে তিনি তাঁর প্রয়াত পিতার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বিশ্বের সকল বর্তমান ও সাবেক শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
Home » শান্তি, ত্যাগ ও গৌরবের নীরব ইতিহাসে—বিশ্ব শান্তিরক্ষা দিবসে এক সেনাসন্তানের হৃদয়ছোঁয়া স্মৃতিচারণ






