রাজধানী

মিরপুর লালকুঠির আলী হোসেনের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, দখলদারিত্ব ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ

রাজধানীর মিরপুর লালকুঠি এলাকার আলোচিত ব্যক্তি আলী হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ ও দখলদারিত্বের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের ওপর ভয়ভীতি সৃষ্টি করে আসছেন এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বদলি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) উত্তরা কার্যালয়ের কর্মরত হুসনে মোবারককে ফিটনেস শাখা থেকে লাইসেন্স শাখায় বদলির আশ্বাস দিয়ে প্রায় ছয় লক্ষ টাকা নেন আলী হোসেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই বদলি আর বাস্তবায়ন হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে বারবার আলী হোসেনের বাসার সামনে ঘুরতে হয়েছে হুসনে মোবারকের বাবাকে। অসুস্থ অবস্থাতেও একাধিকবার গিয়েও তিনি টাকা ফেরত পাননি। পরিবারের দাবি, মানসিক চাপ ও দৌড়াদৌড়ির মধ্যেই একপর্যায়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরিবারের আরও দাবি, ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় সাড়ে ছয় লক্ষ টাকার মধ্যে মাত্র আড়াই লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার সময় আলী হোসেন নাকি বলেন, “আমি কারো টাকা ফেরত দেই না, তোমার ভাগ্য ভালো যে আড়াই লক্ষ টাকা পাইছো।”


এলাকাবাসীর কয়েকজন জানান, “ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে আলী হোসেন বহু মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেই নানা চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বৈরাচার সরকারের সময় ক্ষমতাসীন দলের বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে পরিচিত আলী হোসেন এখনো রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
এমনই একটি ভিডিও ফুটেজ দৈনিক আমাদের সমাচার অনলাইন মাল্টিমিডিয়ার হাতে এসে পৌঁছেছে, যেখানে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও অর্থ লেনদেন নিয়ে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা ও প্রভাব খাটিয়ে সরকারি কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আলী হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply