ভারতের উত্তরপ্রদেশে আঘাত হানা ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১১১ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শুক্রবার (১৫, মে) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবারের (১৩ মে) সেই প্রবল ঝড়, বজ্রপাত এবং রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে উত্তরপ্রদেশের বিশাল এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ঝড়ের তীব্রতায় অসংখ্য ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে এবং শত শত গাছ উপড়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ হয়ে যায় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে।
দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ১১৭ বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি তাৎক্ষণিকভাবে সেই সংখ্যাটি নিশ্চিত করতে পারেনি। প্রায় ২৪ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই রাজ্যে বর্ষা মৌসুমের আগে গ্রীষ্মকালে প্রায়ই এ ধরনের বিধ্বংসী ঝড় ও বজ্রপাত হয়ে থাকে, যা প্রাণহানির অন্যতম প্রধান কারণ।
ঠিক সেই সময় প্রচণ্ড বাতাসের ঝাপটায় টিনসহ তিনি প্রায় ৫০ ফুট উঁচুতে উঠে যান এবং প্রায় ৮০ ফুট দূরে একটি পানিপূর্ণ ভুট্টা ক্ষেতে আছড়ে পড়েন। নিচে টিনটি আগে পড়ায় এবং জমিতে পানি থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান বলে জানিয়েছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়ে বারবার সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের তীব্র বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের ঘটনা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
উত্তরপ্রদেশের রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। মূলত বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে বর্ষা-পূর্ব এই ঝড়ো আবহাওয়া পুরো রাজ্যজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে বলে আবহাওয়াবিদদের ধারণা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: সিএনএ







