রাজধানী

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে আলোচনায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মেডিসিনের চিকিৎসক মাঈদুল

স্টাফ কোয়ার্টারে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ; সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সের বক্তব্য না পাওয়ায় বিষয়টি ঘিরে তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা, তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন সরকারি চিকিৎসককে ঘিরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোঃ মাঈদুল ইসলাম মুকুল এবং রাজধানীর মিরপুরের লালকুঠি মাতৃসদন হাসপাতালে কর্মরত নার্স লুবনা আক্তার আলো।

অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডা.মোঃ মাঈদুল ইসলাম মুকুলের গ্রামের বাড়ি উলিপুর উপজেলা, কুড়িগ্রাম। তিনি এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। প্রায় পাঁচ-সাত মাস আগে তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগদান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে যোগদানের পর থেকেই তিনি হাসপাতালের ডাক্তার স্টাফ কোয়ার্টারে প্রায়ই নার্স লুবনা আক্তার আলোকে নিয়ে একান্তে সময় কাটাতেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন তিনি।

জানা গেছে, নার্স লুবনা আক্তার আলোর বাড়িও উলিপুর উপজেলায়। ঘটনাটি ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, গত সপ্তাহে লুবনা আক্তার একটি সুইসাইড নোট লিখে ডা. মোঃ মাঈদুল ইসলাম মুকুলের কাছে ডাক্তার স্টাফ কোয়ার্টারে যান। পরে তার পরিবারের সদস্যরা রাজধানীর মিরপুর দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।পরবর্তীতে দারুস সালাম থানা পুলিশ বিষয়টি শেরেবাংলা নগর থানাকে অবগত করে।

পরে লিখিত অনুমতি নিয়ে শেরেবাংলা নগর থানা ও দারুস সালাম থানা পুলিশ যৌথভাবে লুবনা আক্তারের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ডাক্তার স্টাফ কোয়ার্টারে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় লুবনা আক্তার আলো পরিবারের সঙ্গে ফেরত যেতে সম্মত হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

ওই সময় পরিস্থিতি ঘোলাটে দেখে ডা. মোঃ মাঈদুল ইসলাম মুকুল, লুবনা ও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন যে ঈদের পরে তিনি তাকে বিয়ে করবেন—এ কথা বলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

উক্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. মোঃ মাঈদুল ইসলাম মুকুল ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস মেসেজ দিয়ে জানান, ঈদের পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দেখা করবেন। একইভাবে নার্স লুবনা আক্তারের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—একজন সরকারি চিকিৎসক যদি এ ধরনের অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষ তার কাছ থেকে কতটুকু নৈতিক সেবা ও আস্থা প্রত্যাশা করতে পারে।বিষয়টি স্বাস্থ্যসেবা খাতের পেশাগত নৈতিকতা ও আস্থার ওপরও প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতরের কারণে অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ঈদের পর অফিস-আদালত পুনরায় চালু হলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা বলেন, কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। লিখিত অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিনিধি বলেন, কোনো নার্সের সঙ্গে প্রতারণা বা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা দরকার। ভুক্তভোগী চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিতে পারেন এবং সংগঠনও বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখবে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক কর্মী বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কোনো নারীকে প্রতারণা করা হলে তা আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর বিষয় হতে পারে। এ ধরনের অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী আইনি সহায়তা নিতে পারেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় বিষয়টির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যথাযথ তদন্ত হলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

ডা. মোঃ মাঈদুল ইসলাম মুকুল ও নার্স লুবনার বিষয়ে তাদের ছবি ও বিস্তারিত আসছে পরবর্তী সংখ্যায়।

Leave a Reply