অভিযুক্তকে কাগজপত্রসহ থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ; অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ মালিক-শ্রমিকরা
রাজধানীর দারুসসালাম এলাকায় পরিবহন কাউন্টার দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা দারুসসালাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগে আগে দারুসসালাম থানা ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃত রুম্মন আহমেদ আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। তিনি সরকারি অনুমোদিত ঢাকা ভিলেজ লাইন পরিবহনের কাউন্টার দখল করে সেখানে “ঢাকা ভিলেজ লাইন প্লাস” নামে একটি ব্যানার টানিয়ে বাস মালিক ও চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিদিন টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে কাউন্টার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং বাস মালিক ও চালকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মালিক ও শ্রমিকরা যৌথভাবে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং কাউন্টারে নোটিশ ঝুলিয়ে তাদের অবস্থান জানান।
এ বিষয়ে দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া বলেন,
“পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বৈধ কাগজপত্রসহ থানায় এসে দেখা করতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব দীর্ঘদিনের সমস্যা। একজন মানবাধিকার কর্মী বলেন,
“কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি জোরপূর্বক কাউন্টার দখল করে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে থাকে, তাহলে তা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। প্রশাসনের উচিত দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।”
স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা বলেন,
“রাজনীতির নাম ব্যবহার করে কেউ যদি অবৈধভাবে চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করুক এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক।”
এদিকে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তারা এখন ঐক্যবদ্ধ। তারা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে পরিবহন কাউন্টারগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে এবং কোনো ধরনের অবৈধ দখলদারিত্ব বা চাঁদাবাজি বন্ধ করা যায়।






