সারাদেশ

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিদ্রোহ ফুলবাড়ী পৌর বিএনপিতে প্রকাশ্য ভাঙন, বহিষ্কৃত প্রার্থীর পক্ষে মিছিল

আসন্ন নির্বাচনের উত্তাপে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর বিএনপিতে ভয়াবহ সাংগঠনিক সংকট ও প্রকাশ্য বিভাজন সামনে এসেছে। দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ এক নেতা বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে মিছিল করায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, দিনাজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফুলবাড়ী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাজুল ইসলাম পৌর বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত তালা মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী এজেডএম রেজাউনুল হকের পক্ষে প্রকাশ্য মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ফুলবাড়ী উপজেলার সংলগ্ন গোলচত্বর এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় গোলচত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিলে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মো. শাহাজুল ইসলাম প্রকাশ্যে তালা মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর এই বক্তব্য ও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে প্রকাশ্য বিদ্রোহের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী বা বহিষ্কৃত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানো গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য প্রাথমিকভাবে কারণ দর্শানো নোটিশ, পদ স্থগিত বা স্থায়ী বহিষ্কারের মতো কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনী আচরণবিধি ও রাজনৈতিক দলের নিজস্ব গঠনতন্ত্র—দুটোরই লঙ্ঘন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি দুই ধরনের জবাবদিহির প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে মিছিল করলে তা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির আওতাতেও পর্যালোচনার বিষয় হতে পারে।

এ ঘটনায় ফুলবাড়ী পৌর বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেক নেতা-কর্মী দ্রুত কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ও সাংগঠনিক শুদ্ধি অভিযানের দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাঙন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে ফুলবাড়ীতে বিএনপির নির্বাচনী কৌশল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply