রাজধানী

 ৯০৬ প্লট অবিলম্বে হস্তান্তরের দাবি, উপদেষ্টা মহোদয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা

রাষ্ট্রের অর্থে ক্রয় ও উন্নয়নকৃত ভাষানটেক বেনারসী তাঁতপল্লী প্রকল্পের জমি অবিলম্বে প্রকৃত বেনারসী তাঁতীদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মিরপুর ১০ ১১ ও ১২ নম্বর এলাকার তাঁতীরা। তাঁদের অভিযোগ দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে অনুমোদিত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী বেনারসী তাঁত শিল্প আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

তাঁতীদের পক্ষ থেকে জানানো হয় ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ভারতের উত্তর প্রদেশের বেনারস অঞ্চল থেকে আগত মহাজির বেনারসী তাঁতীরা ঢাকায় এই শিল্পের ভিত্তি গড়ে তোলেন। তাঁতীবাজার শাঁখারীবাজার দয়াগঞ্জ নবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বেনারসী তাঁত কারখানা স্থাপন করে তারা দেশের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘরবাড়ি ও কারখানা হারিয়ে তাঁতিরা নিঃস্ব হয়ে পড়েন। স্বাধীনতার পর তারা মিরপুর এলাকায় নর্দমা ক্যাম্প ও বস্তিতে অমানবিক পরিবেশে বসবাস করেও এই শিল্প টিকিয়ে রাখেন।

বেনারসী তাঁত শিল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড গঠিত হয় এবং মিরপুর ভাষানটেকে প্রায় ৪০ একর জমিতে বেনারসী তাঁতপল্লী স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৯৫ সালের ২৩ মার্চ DPEC এর অনুমোদনে প্রকল্পের জন্য ২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মাটি ভরাটে সাড়ে ৮ কোটি টাকা এবং জমির মূল্য বাবদ ১১ কোটি ৩২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। তাঁতীদের দাবি রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় ও সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রকল্পটি আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

সরকারি নথি অনুযায়ী ২০১৫ ও ২০১৮ সালে ৩ একর ও ৩৭ একর জমি রেজিস্ট্রি করা হলেও এখনো পুরো জমি বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। বর্তমানে ভাষানটেক বেনারসী তাঁতপল্লী এলাকায় ভবন নির্মাণ কাজ চলমান থাকলেও প্রকৃত তাঁতীদের জন্য নির্ধারিত ৯০৬টি প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং প্রকল্প এলাকায় অবৈধ বস্তি গড়ে ওঠায় বাস্তবায়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তাঁতীরা জানান ৯০৬টি প্লট তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়া হলে তাঁতীরাই অবৈধ বস্তি উচ্ছেদে সহযোগিতা করবেন। অতীতে একাধিকবার বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে বলেও তাঁতীদের দাবি। তাঁদের মতে প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে জমি হস্তান্তর করা সম্ভব।

তাঁত শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলেন অবাধে বিদেশি বিশেষ করে ভারতীয় বেনারসী পণ্য দেশের বাজারে প্রবেশ করায় দেশীয় শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বহু দক্ষ তাঁতি পেশা পরিবর্তন করে রিকশা চালানো ভ্যান চালানো সবজি বিক্রি ও দিনমজুরির কাজে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে অনাহার ও চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ বিশ হাজার পরিবার জড়িত। ভাষানটেক বেনারসী তাঁতপল্লী প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুই লাখের বেশি পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তাঁতীদের দাবি। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে দেশীয় চাহিদা পূরণ এবং বিদেশে রপ্তানি করে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে সারাদেশের প্রাথমিক তাঁতি সমিতির পক্ষে নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। উক্ত কর্মসূচিতে ভাষানটেক তাঁতিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ শামীম মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মোহাম্মদ কালাম আজম খান ডিজে সাত্তারসহ আরো অনেক তাঁতি প্রতিনিধি।

এ অবস্থায় তাঁতীরা বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মহোদয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন রাষ্ট্রের টাকায় কেনা ভাষানটেকের জমি অবিলম্বে প্রকৃত বেনারসী তাঁতীদের কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে প্রকল্প এলাকা থেকে অবৈধ বস্তি উচ্ছেদ করতে হবে এবং বিলম্ব না করে বেনারসী তাঁতপল্লী প্রকল্প সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় মসলিনের মতোই বেনারসী তাঁত শিল্প ইতিহাসের পাতায় বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply