জীবনের একটি কঠিন ও বেদনাবিধুর সময়েও রাজনৈতিক আদর্শ ও দলের প্রতি অবিচল থাকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাঞ্ছারামপুরের আলোচিত নেতা, কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হলেও আবেগঘন বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—মনোনয়ন না পাওয়া মানেই রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া নয়; বরং এটি আত্মত্যাগ ও ধৈর্যের আরও বড় পরীক্ষা।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এটি আমার জীবনের ব্যক্তিগতভাবে একটি কষ্টের দিন। কিন্তু বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবুও গভীর গর্বের সঙ্গে বলতে চাই—আমি একটি আদর্শিক, সংগ্রামী ও গণতান্ত্রিক দলের একজন কর্মী। দল আমার কাছে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে, দলই আমার রাজনৈতিক পরিচয়।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনাই তাঁর রাজনীতির একমাত্র পথনকশা। “আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, সেটিই আমার রাজনীতির একমাত্র পথ। তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে,”—বলেন পলাশ।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে উল্লেখ করেন, “আমি বিশ্বাস করি, মনোনয়ন না পাওয়া মানেই পিছিয়ে যাওয়া নয়। অনেক সময় এটি আত্মত্যাগের বড় পরীক্ষা। দলের জন্য ত্যাগই প্রকৃত শক্তি—এ বিশ্বাস আমি হৃদয়ে ধারণ করি।
কৃষিবিদ পলাশ স্পষ্ট করে জানান, তিনি পদ-পদবির রাজনীতি নয়, মানুষের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। “ক্ষমতার মোহ নয়, জনগণের ভালোবাসাই আমার রাজনীতির মূল প্রেরণা। অতীতের মতো আগামীতেও সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে আমি মানুষের পাশেই থাকব। আমার অবস্থান বদলাতে পারে, কিন্তু দায়বদ্ধতা বদলাবে না,
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মেহেদী হাসান পলাশ আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে তিনি রাজপথে ছিলেন, রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলার শিকার হওয়া এবং কঠিন সময়েও দলের পতাকা আঁকড়ে ধরে রাখার নজির রয়েছে তাঁর রাজনীতিতে। দুর্দিনে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেই তিনি এলাকায় একজন ত্যাগী ও নির্ভরযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থা আমাকে আরও শক্ত করেছে। ইনশাআল্লাহ, দল ও দেশের যে কোনো প্রয়োজনে আমি অতীতের মতোই নিষ্ঠা, সততা ও সাহস নিয়ে পাশে থাকব।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপির পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ থাকলে একদিন গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। “ব্যক্তিগত প্রাপ্তি নয়, সমষ্টিগত লক্ষ্যই আমাদের রাজনীতির উদ্দেশ্য, এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি তাঁর রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।






