ছয় ঋতুর বাংলাদেশ—গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত পেরিয়ে শীত এলেও এবার যেন বাজারে উষ্ণতা নেই। ‘আমার সোনার বাংলা’তে শীত মানেই যেখানে কেনাকাটার উৎসব, সেখানে এ বছর দৃশ্যটা ভিন্ন। দোকানের ভেতর সারি সারি হ্যাঙ্গারে ঝুলে আছে ব্লেজার, কোট আর সোয়েটার—নীরব অপেক্ষায়।
ফুটপাথের দুই পাশে রঙিন শীতবস্ত্রের পসরা সাজানো। উলের সোয়েটার, জ্যাকেট, হুডি, ব্লেজার—সবই আছে। নেই শুধু ক্রেতা। সত্য প্রবাহ এলে দোকানদারের মুখে হাসি ফোটার কথা ছিল; কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বিক্রি নেই, দরদাম নেই—আছে কেবল হিসাবের খাতা আর দীর্ঘশ্বাস।
এক দোকানদার বললেন, প্রতিদিন হ্যাঙ্গারের দিকে তাকাই—শত শত ব্লেজার যেন প্রশ্ন করে, কবে আমাদের প্রিয় মালিক আসবে? কবে কেউ শরীরে জড়াবে আমাদের?” ক্রেতার অনুপস্থিতিতে ঝুলন্ত পোশাকগুলো যেন হয়ে উঠেছে নীরব সাক্ষী—সময়ের কঠিন বাস্তবতার।
অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, বাড়তি খরচ আর অনিশ্চয়তার ভয়ে মানুষ প্রয়োজনের বাইরে কেনাকাটা কমিয়েছে। শীত আছে, কুয়াশা আছে—কিন্তু বাজারে নেই আগের মতো উচ্ছ্বাস। হ্যাঙ্গারে ঝুলে থাকা ব্লেজারগুলো তাই শুধু কাপড় নয়, হয়ে উঠেছে অপেক্ষার প্রতীক।
তবু আশায় বাঁচে ব্যবসা। দোকানদারদের বিশ্বাস—দিন বদলাবে। শীতের কোনো এক সকালে হঠাৎ ভিড় জমবে, দরদামে মুখর হবে দোকান। আর তখনই—দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে—হ্যাঙ্গার ছেড়ে শরীরে জড়াবে সেই ব্লেজার।






