ঢাকা মহানগর বিএনপি (উত্তর) থেকে পাওয়া কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দিয়েছেন দারুস সালাম থানা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক (সাজু)।
সোমবার ভাসানী ভবনে আনুষ্ঠানিক উত্তরে তিনি অভিযোগগুলো ‘অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।
চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দপ্তর দায়িত্বপ্রাপ্ত এ বি এম এ রাজ্জাককে। অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়টি রাজ্জাক ‘বুঝিয়া পেলাম’ বলে স্বাক্ষর করেছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ আছে।
২৩ নভেম্বরের শোকজের প্রেক্ষিতে দলীয় আহ্বায়কের কাছে পাঠানো চিঠিতে সাজু অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি দাবি করেন, ২২ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকা-১৪ আসনে অনুষ্ঠিত স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। ওই সমাবেশে তৃণমূল নেতাকর্মী ও এলাকার সাধারণ মানুষের ‘গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশকেই’ ভুলভাবে তাঁর ওপর দায় চাপানো হয়েছে।
চিঠিতে সাজু বলেন, ‘ঢাকা-১৪ আসনের জনগণ সানজিদা ইসলাম তুলির মনোনয়ন নিয়ে তাদের অসন্তোষ ও প্রত্যাশার কথা জানাতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছিলেন। এটি ছিল দলের প্রতিষ্ঠাকালীন চেতনা—জনগণের ক্ষমতার উৎস—তারই প্রকাশ।’
তিনি অভিযোগ করেন, মনোনয়ন প্রশ্নে তৃণমূলে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, সানজিদা ইসলাম তুলির সাম্প্রতিক মন্তব্য সেটিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সাজুর দাবি, ওই মন্তব্য দেশের বহু মানুষের কাছে ‘ইসলামী শরিয়াহ অবমাননাকর’ হিসেবে সমালোচিত হয়েছে।
চিঠিতে সাজু নিজের রাজনৈতিক অতীত ও পরিবারের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। জানান, তাঁর পিতা প্রয়াত এস. এ. খালেক ১৯৭৮ সাল থেকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠাতা নেতার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন। সাজুর ভাষ্য, গত ৪৭ বছর ধরে তিনিও বিএনপির আদর্শের প্রতি অনুগত এবং গত ১৫ বছর দলে থেকে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে’ সক্রিয় থেকেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক হয়রানির মামলায় ৮২ বার অভিযুক্ত হওয়া, ক্যান্সার জয়ের অভিজ্ঞতা এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা—সব কিছুই দলের প্রতি তাঁর নিষ্ঠার প্রমাণ।
নিজের প্রার্থিতা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে সাজু বলেন, ঢাকা–১৪ আসনের ১২৬ জন পদধারী তাঁর সমর্থনে স্বাক্ষর দিয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সামনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগও চান।
গত শনিবার ও রবিবার তুলি নন, সাজুকেই প্রার্থী চাই— ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির একাংশ বিশাল মশাল মিছিল করে। রাজধানীর গাবতলী এলাকায় দারুস সালাম থানা বিএনপির একাংশের আয়োজনে এই মিছিল হয়। শনিবার মিরপুর–১ এলাকাতেও একই ধরনের মশাল মিছিল হয়। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে তুলির মনোনয়ন বাতিলের দাবি তোলা হলেও, দ্বিতীয় দিনের মিছিলে তাকে ‘বয়কটের’ ঘোষণা দেয় অংশগ্রহণকারীরা।
মিছিলে থাকা কয়েকজন কর্মী দাবি করেন, সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তুলি ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন—এ অভিযোগে তারা ক্ষুব্ধ।






