রাজধানীতে সিআইডি পরিচয়ে অপহরণ, চাঁদা আদায় ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি অপরাধী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে আসছিল। অবশেষে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম শাখার এক অভিযানিক দল চক্রের দুই সক্রিয় সদস্য মো. হাসানুজ্জামান (৩৫) এবং মো. আলমগীর শিকারী (৪৬)–কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গত ২২ নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে হাইকোর্ট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকে’র পর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ সবতথ্য। চক্রটি প্রথমে তাবলীগ জামাতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে পরিচয় তৈরি করত। অভাবের গল্প শুনিয়ে ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জন করাই ছিল তাদের প্রথম ধাপ।
এভাবেই ব্যবসায়ী জামাল (ছদ্মনাম)-এর পরিচয় হয় ৫৬ বছর বয়সী অভিযুক্ত সামসুল হক খানের সাথে। কাকরাইলস্থ তাবলীগ জামাতের মারকাজ মসজিদে নিয়মিত আড্ডার সুবাদে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সামসুল প্রায়ই টাকার অভাবের কথা বলে জামালের কাছ থেকে অর্থ নিত এবং ধীরে ধীরে তাকে টার্গেটে পরিণত করে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখ রাতে নিজের অসুস্থতার কথা বলে যাত্রাবাড়ির গোলচত্তরে সামসুলের সঙ্গে দেখা করতে আসেন জামাল। তারা ওখানে একটি হোটেলে বসে নাস্তা করে বের বাহিরে বের হতেই সামসুলসহ সাতজন ব্যক্তি নিজেদের সিআইডির সদস্য পরিচয় দিয়ে জাল গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখিয়ে তাকে গাড়িতে তুলে নেয়। সেই সময় তার ব্যবসায়িক অংশীদার রেজাউল করিমও ছিলেন।
অপহরণকারীরা তাদের ঢাকার হাসনাবাদ এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের উপরে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তারা ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জামালকে মারধর করে আতঙ্কিত করা হয়। বাধ্য হয়ে জামাল নগদ ও ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। রেজাউল করিমের কাছ থেকেও ২৭ হাজার টাকা আদায় করে অপহরণ কারি চক্রের সদস্যরা।
টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও থামেনি চক্রটি। পরবর্তীতে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার লক্ষ্যে জামালকে বিবস্ত্র করে ২৫/৩০ বসরের একটি তরুণীর সঙ্গে বসিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করার পাশাপাশি। একই সঙ্গে ১৮টি নন-জুডিসিয়াল খালি স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পুরো ঘটনা ঘটে ১৪ অক্টোবর রাত ১১টা থেকে ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে।
এই ঘটনার এক সপ্তাহ পরেই অপহরণ চক্রের সদস্যদের শুরু হয় নতুন দফার চাঁদাবাজি। ধারণ করা ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চক্রটি ২০ লাখ টাকা দাবি করে। জামালের কাছে অন্যথায় সামাজিকভাবে হেয় করা ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেয় জামাল’কে।
অবশেষে ভুক্তভোগী জামাল জীবন রক্ষার ভয়ে জামাল কোন উপায়ন্তর না পেয়ে আইনের দ্বারস্থ হয়ে যাত্রাবাড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন মামলা নং—১৬, তারিখ ৬/১১/২০২৫ দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার হাতে পেয়ে সিআইডি প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানের ভিত্তিতে হাসানুজ্জামান ও আলমগীর শিকারীকে গ্রেফতার করে।
কর্তব্যরত সিআইডি অফিসারের সঙ্গে কথা হলে তিনি প্রতিনিধি’কে বলেন গ্রেফতারকৃত দুইজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, চক্রের মূলহোতা সামসুলসহ অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






