রাজধানী

মানবতার ফেরিওয়ালা ড. এইচ. এম. রমজান পাশা

মানবতার অপার সমুদ্রে কিছু মানুষ জন্ম নেন আলোর দিশা দেখাতে। তাঁদের উপস্থিতি সমাজে এনে দেয় শান্তি, নৈতিকতা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা। তেমনই এক আলোকিত মানুষ—ড. এইচ. এম. রমজান পাশা। তাঁর ব্যক্তিত্বে মিশে আছে সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, বিনয়, সাদামন এবং মানবসেবার অনন্য সমন্বয়। যেন আল্লাহ তাআলা তাঁকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের উপকারের জন্যই।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের প্রান্ত—যেখানে একজন অসহায় মানুষ সাহায্যের আশায় দোয়া তোলে, সেখানে এক নীরব আশ্রয় হয়ে দাঁড়ান ড. রমজান পাশা। তিনি কারও কাছে প্রচার চান না, স্বীকৃতি চান না; বরং মানুষের কল্যাণে কাজ করাকেই নিজের জীবনের উদ্দেশ্য বানিয়ে নিয়েছেন।

মানবিকতার পথে এক আজীবন যাত্রা

ড. রমজান পাশার ভদ্র স্বভাব, স্থির আচরণ এবং মিষ্টি কথাবার্তা যে কাউকে মুগ্ধ করে। তাঁর হৃদয় মনুষ্যত্বের আলোয় ভরা—মসজিদ উন্নয়ন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সহযোগিতা, কিংবা দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা—সবখানেই তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছেন নীরবে, নিষ্ঠায়।

তিনি বিশ্বাস করেন— জ্ঞান শুধু মুখস্থ করার নয়; জ্ঞান হলো মানুষের জীবন আলোকিত করার অমূল্য সম্পদ।” এ বিশ্বাসকে বুকে লালন করে তিনি দেশের অন্যতম বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও ইতিহাসবিদ হিসেবে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। তাঁর লেখা, গবেষণা এবং দিকনির্দেশনা তরুণদের মধ্যে নৈতিকতার বীজ বুনে চলেছে প্রতিনিয়ত।

শুধু তাই নয় দেশজুড়ে-বিভিন্ন মসজিদ–মাদ্রাসা উন্নয়ন, সংস্কার কিংবা নতুন প্রকল্পে উন্নয়নে ড. রমজান পাশার অবদান অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি শুধু অর্থসাহায্যই করেন না—পরামর্শ, পরিকল্পনা, এবং মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকেও কাজগুলো এগিয়ে নেন।

মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজের অভাবী শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ‘মানবতার মাসিহা’, কারণ তাঁরা যখন সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত থাকে—সেই সংকটমুহূর্তেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।

আজকের সমাজে যেখানে সামান্য দান-খয়রাতও ছবি তুলে প্রচার করার প্রবণতা বাড়ছে, সেখানে ড. রমজান পাশা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে নীরব নিভৃতে মানুষের পাশে দাঁড়ান কেউ জানুক বা না জানুক, তাঁর উদ্দেশ্য কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি।

এ বিষয়ে প্রতিনিধি তাঁর সাথে কথা বললে তিনি বিনয়ের সাথে বলেন— “মহান আল্লাহ বলেছেন—ডান হাতে দান করলে বাম হাত যেন না জানে। আমি যা করি, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করি। আমি আল্লাহর নগণ্য এক গোলাম; আর সত্যি বলতে আল্লাহ ছাড়া কেউ কাউকে কিছু দান করতে পারেনা আমি তার গোলাম হিসেবে তার অন্য গোলামের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি সমাজে নিজের পরিচয় বড় করার জন্য নয়।”

কথার শেষে তিনি আরও বলেন— “আপনারা আমাকে নিয়ে কিছু না লিখলে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হবো।” এ কথাই প্রমাণ করে, তিনি সত্যিকারের আল্লাহভীরু, লজ্জাশীল ও বিনয়ী মানুষ। দেশের তরুণদের জন্য আলোকবর্তিকা মানবতার এ দরদী মানুষ শুধু সাহায্যেই সীমাবদ্ধ নন—তিনি তরুণদের নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও আদর্শিক জীবনের শিক্ষা দেন নিজের জীবনাচরণের মাধ্যমে।
তাই তিনি আজ দেশের তরুণ সমাজের কাছে এক উজ্জ্বল প্রেরণা, সমকালীন সমাজে এক আলোকবর্তিকা।

মানবতার এই ফেরিওয়ালার বিষয়ে জামিয়া হুসেনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা সাদ উদ্দিন ইয়াহিয়া কাসেমী বলেন, ড. এইচ. এম. রমজান পাশা—একটি নাম, যার অর্থ মানবতা, নৈতিকতা, দানশীলতা এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।

সমাজের অসহায় মানুষদের মুখে হাসি ফোটানো তাঁর জীবনের ব্রত। তাঁকে যত প্রশংসা করা হবে, যত লেখা হবে—ততই কম পড়ে যাবে। আমি ও আমরা সকলে অন্তর থেকে দোয়া করি মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর জ্ঞান, সেবা ও মানবিকতার এই সুন্দর পথচলা কবুল করুন— এবং তাঁকে মানুষের আরও উপকারে নিয়োজিত হবার তাওফিক দিন।  আমীন।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply