রাজধানী

রেসকোর্স ময়দান—ইতিহাসের স্মৃতিসৌধে আজ মাদকবিক্রি নতুন প্রজন্ম ঝুঁকিতে, উদ্বেগ বাড়ছে

দেশের ইতিহাস রচিত স্থল হিসেবে পরিচিত Sohrawardy Udyan (প্রাক্তন রেসকোর্স ময়দান)–কে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। যেখানে এক সময় স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেরণা গড়ে উঠত, সেখানে এখন
গোধূলির শেষ লগ্নেই মাদকদ্রব্য বিক্রি–ক্রয় ও সহিংস নেশার ছড়াছড়ি নিরুপায় করে তুলছে নবীন তরুণ প্রজন্মকে—স্থানীয়দের অভিযোগ ও এলাকাবাসীর হতাশা প্রকাশ পেয়েছে।
রেসকোর্স ময়দান—বর্তমান Sohrawardy Udyan—দেশের স্মৃতিতে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। স্বাধীনতার ঊষালগ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ ও ঘটনাবলী এখানেই সংঘাটিত হয়েছিল। কিন্তু বিগত কিছু সময় ধরে সন্ধ্যার পর ময়দানে অবৈধ গোলযোগ, মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও গোষ্ঠীসংঘর্ষের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণেই স্থানীয়দের মনে ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষা এবং নিরাপত্তা ফেরাতে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ইতিহাসিক প্রেক্ষাপট
রেসকোর্স ময়দান বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের অনেক স্মরণীয় উপাখ্যানের অংশ। বহু আন্দোলন ও জনসমাবেশ এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে; স্বাধীনতার সময়ও এই ময়দান জাতির আবেগ-অনুভবের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। (এই ইতিহাসটি দেশের জনজীবনে একটি সম্মানজনক স্থান হিসেবে বিবেচিত।)
স্থানীয়দের বর্ণনায়, গোধূলির শেষ থেকেই ময়দানটি ক্রমশ জনশূন্য হয়ে পড়ে, বদলে তা মাদক ব্যবসায়ীদের গোপন মিটিং, তরুণদের নেশা-সঞ্চার ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গাঁজা, ইয়াবা-সহ বিভিন্ন আইনের বহির্ভূত পদার্থের ব্যবসা-লেনদেনের আলামত পাওয়া যাচ্ছে—যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে আসক্তি বাড়াচ্ছে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

প্রভাবিত তরুণ: “আমাদের এখানে খেলার জায়গা নেই, সন্ধ্যে হলেই নানান অনাকাঙ্ক্ষিত লোকজন জমায়েত করেন; আমাদের বন্ধুরাও আশেপাশে সমস্যায় পড়ে,”—এক যুবক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন।
স্থানীয়রা বলছেন, যে স্থানটি একসময় দেশের মুক্তির স্বপ্নে আলোকিত ছিল, আজ সেই গর্বক্ষেত্রে কিশোর-কিশোরীদের আধুনিক বিপন্নতার ছায়া দেখা যাচ্ছে।

সমাজ ও প্রশাসনের করণীয়
স্থানীয় নাগরিক সমাজ, স্কুল-কলেজ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার প্রতি জোর দিচ্ছেন—নিম্নলিখিত উদ্যোগগুলো কার্যকর হতে পারে বলে তারা মনে করেন:

সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ময়দানের নিরাপত্তা বাড়ানো (পেট্রোলিং ও নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ)।

যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে বিকল্প কার্যক্রম (খেলার প্রশিক্ষণ, সাংস্কৃতিক ক্লাব, কর্মশালা) চালু করা।

মাদকদ্রব্য দমন অভিযানে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদিচ্ছা ও স্বচ্ছ অনুসরণ।

মদনীয় অসহায়তার বিরুদ্ধে স্থানীয় পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সচেতনতা কর্মসূচি।
ইতিহাসকে রক্ষা করতে হলে ঐতিহ্যবাহী জায়গাগুলোকে কেবল স্মৃতিসৌধ হিসেবে নয়—অনুশাসিত সামাজিক স্থান হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে,এক জন সমাজকর্মী বলেন। যুবসমাজকে ফিরিয়ে আনার জন্য নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং সৃজনশীল পরিবেশ নির্মাণ জরুরি
Sohrawardy Udyan—রেসকোর্স ময়দান—দেশের স্মৃতিচিহ্ন; কিন্তু যদি তা আজকের প্রজন্মের জন্য ঝুঁকি-স্থল হয়ে যায়, তাহলে শুধু স্থানটিই নয়, জাতির ভবিষ্যৎকেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিহাস রক্ষা ও নবীন প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখার জন্য সরকার, পুলিশ, স্থানীয় নেতৃত্ব ও সমাজ—সবার ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ অপরিহার্য।

Leave a Reply