পঞ্চগড়ের বোদায় ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করতে থানায় গিয়ে অভিযুক্তকে মারপিটের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন শিশুটির বাবা, চাচা ও ভাই। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে শিশুটিকে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ধর্ষণে অভিযুক্ত আশিকুজ্জামান মানিক (৪৫) প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার। তবে মানিক তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পাল্টা অভিযোগ করে মানিক বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার উপর হামলা হয়েছে। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার দিন আমাকে ধরে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অমানবিকভাবে মারধর করে শিশুটির বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় বোদা থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলার বাদী আশিকুজ্জামান মানিক নিজে। অপর মামলাটি করেছে ধর্ষণচেষ্টার শিকার দাবি করা শিশুটির পরিবার।
শিশুটির পরিবারের দাবি, সোমবার দুপুরে বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি এলাকার প্রতিবেশী মানিকের বাড়িতে টিভি দেখতে যায় শিশুটি। বাড়ি ফেরার সময় একটি গলিতে শিশুটি মুখ চেপে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করে আশিকুজ্জামান মানিক (৪৩) মানিক। শিশুটি কোনমতে ছুটে বাড়ি গিয়ে তার মাকে বিষয়টি জানায়। এরপর শিশুটির পরিবারের সদস্যরা রাতে বোদা থানায় অভিযোগ করতে গেলে মানিকের লোকজন ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সদস্যদের হাত থেকে অভিযোগের কাগজটি নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। এক পর্যায়ে শিশুটির বাবা, ভাই ও চাচাকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে চতুর্থ শ্রেণির ওই শিশুকে প্রথমে বোদা উপজেলা হাসপাতালে এবং পরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
শিশুটির মা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার অভিযুক্ত আশিকুজ্জামান মানিক (৪৩) প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমার মেয়ের উপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে উল্টো পুলিশ আমার ছেলে, স্বামী এবং দেবরকে আটক করে পুলিশ। মানিকের লোকজন সবার সামনেই আমাদের অভিযোগ ছিঁড়ে ফেলেছে। আমাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমি আমার মেয়ের উপর নির্যাতনের ন্যায়বিচার চাই।
এদিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে আশিকুজ্জামান মানিক দাবি করেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার উপর হামলা হয়েছে। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার দিন আমাকে ধরে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অমানবিকভাবে মারধর করে শিশুটির বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা। এমনকি আমার স্ত্রী-সন্তানদের উপরও হামলা করা হয়। তারা বিগত সরকারের সময়ে মানুষের জমি জোরপূর্বক দখল করেছিল। সরকার পতনের পর এলাকার মানুষকে নিয়ে সেই জমি উদ্ধার করে দেওয়া হয়। এজন্য তারা আমার উপর ক্ষুব্ধ। আমাকে পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে নিয়ে আমার উপর মিথ্যা অভিযোগ করেছে। বর্তমানে আমি রংপুরে চিকিৎসাধীন। আমার একটা চোখ নষ্টের পথে।
বোদা থানার ওসি মো. আজিম উদ্দিন বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে মানিককে মারধর করা হয়েছে। ৯৯৯ ফোন করে স্থানীয়রা আমাদের সহায়তা চাইলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মানিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। আগে মানিক মামলা করেছেন। পরে শিশুটির বাবাসহ ৩ জন ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করতে আসলে তাদের মামলটিও নেওয়া হয়। আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখানে মামলার এজাহার ছেঁড়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আসামিদের জেলহাজাতে পাঠানো হয়েছে। দুটি মামলাই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।






