বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির উদ্যোগে বাংলাদেশ রেলওয়ের চলমান অবস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পোষ্যদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা শীর্ষক সংলাপ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে।
অনুষ্ঠানে রেলওয়ের জনবল সংকট, ইঞ্জিন ও কোচের ঘাটতি, রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতা ও প্রশাসনিক অদক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, এক সময় দেশের অন্যতম সেবাখাত ছিল রেলওয়ে, অথচ বর্তমানে এটি দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার শিকার।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মনির। বক্তব্য রাখেন— এম. আর. মঞ্জু (জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারী দল), এস. কে. বারি (রেলওয়ে কারিগর পরিষদ), মোঃ মুজিবুর রহমান (রানিং স্টাফ কর্মচারী ইউনিয়ন), মোঃ আনোয়ার হোসেন (স্টেশন মাস্টার কর্মচারী ইউনিয়ন), এবং মোঃ ইউছুফ রশীদি (উপদেষ্টা, পোষ্য সোসাইটি) সহ বিভিন্ন জেলা ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সংলাপে উত্থাপিত প্রধান দাবি ও সমস্যা:
পোষ্যদের চাকরি নিশ্চিতকরণ: রেলওয়ে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী কর্মচারীদের সন্তানদের চাকরির বিষয়টি মানবিক ও সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে বিবেচনার দাবি।
নিয়োগে স্বচ্ছতা ও বিধিমালা সংশোধন: ২০২০ সালের নিয়োগ বিধিমালার অস্পষ্টতা দূর করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের আহ্বান।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ঝুঁকি ভাতা ও রেশন: দীর্ঘদিন ধরে রেশন সুবিধা ও ঝুঁকি ভাতা থেকে বঞ্চিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ন্যায্য পাওনা প্রদানের দাবি।
🔹 টিএলআর ও প্রকল্পভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ীকরণ: দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি স্থায়ী করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান।
🔹 আউটসোর্সিং প্রক্রিয়া বাতিল: রেলওয়ের বিভিন্ন পদে ঠিকাদার-নির্ভর নিয়োগ পদ্ধতিকে অস্বচ্ছ ও দুর্নীতিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মনির বলেন— “বাংলাদেশ রেলওয়ে শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি লাখো পরিবারের জীবনের সঙ্গে জড়িত। এর সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং মানবিক পুনর্গঠন এখন সময়ের দাবি।”
সংগঠনের ঘোষণা:
সংলাপ শেষে, রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির নেতৃত্বে সকল প্রতিনিধিরা রেলওয়ে সংস্কার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।






