সারাদেশ

হবিগঞ্জ নির্বাচন অফিসে দালালদের টাকা দিলে কাজ দ্রুত হয়, অন্যথায় ভোগান্তি

হবিগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস অনিয়ম ও দুর্নীতির আতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দালালের মাধ্যমে কন্ট্রাক্ট করলে এনআইডি সংশোধন, নতুন ভোটার নিবন্ধনসহ যাবতীয় কাজ সহজেই সম্পন্ন হয়। তবে দালাল ছাড়া সেবাপ্রত্যাশীদের দিনের পর দিন ঘুরতে হয় কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্বাচন অফিস ঘিরে আগের চেয়ে আরও বেড়েছে দালালের প্রভাব। অফিসের আশপাশের কম্পিউটার দোকানের কর্মীরা এ কাজে সরাসরি জড়িত দোকানিরা সেবাপ্রত্যাশীদের দালালের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, আর দালালরা অতিরিক্ত টাকা নিয়ে কাজ দ্রুত সমাধান করে দেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার মাহমুদের বিরুদ্ধে সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও উঠেছে। প্রবাসী রহমানের ভাই হৃদয় মিয়া সাংবাদিকদের কাছে একটি অডিও রেকর্ড দিয়ে দাবি করেন, তাঁর ভাই এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে গেলে কর্মকর্তা কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কথা বলেন এবং শেষ পর্যন্ত অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। হৃদয় মিয়ার ভাষ্য, “একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আচরণ যদি এমন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এনআইডি কার্ড সংশোধনসহ বহু কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, সাধারণভাবে আবেদন করলে কাজ হয় না; দালালকে টাকা দিলেই সব সমাধান হয়ে যায়। এ নিয়ে সামাজিক তীব্র যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা চলছে।

মিজানুর রহমান লিখেছেন, “তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন না।” একেএম সজল লিখেছেন, “দুই বছর অফিসে ঘুরেছি, কাজ হয়নি। পরে দালাল ধরেই কাজ করিয়েছি।” রিপন নামে আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “যখন দুদক হানা দেয়, তখনই এসব প্রকাশ্যে আসে।” নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্বাচন অফিসের এক কর্মচারী স্বীকার করেছেন, “স্যারের ব্যবহার ভালো নয়, অনেক কাজ ইচ্ছাকৃত ঝুলিয়ে রাখা হয়। ফলে মানুষ দালালের শরণাপন্ন হয়।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার মাহমুদ সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন। তিনি বলেন, “আমাকে এসব কথা বলছেন কেন! আমি কোনো সাংবাদিককে এভাবে বক্তব্য দিই না।”

Leave a Reply