সারাদেশ

চুনারুঘাট থানার আলোচিত ওসি নুর আলম ক্লোজড

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যা আইনের শাসন ও পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ উঠেছে, বাসা থেকে ওসির ৪ লক্ষ টাকা চুরি যাওয়ায় সন্দেহ করে উদ্ধারের জন্য নিজের ড্রাইভার ওয়াসিমের বাসা তছনছ করায় ড্রাইভার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ করেন।

ভিডিও ভাইরাল ও সংবাদ প্রকাশের পর তাকে ক্লোজড করা হলেও ওসির বাসায় ৪ লক্ষ টাকা এক সাথে এলো কোথা থেকে এই প্রশ্ন এখনো জনমনে! এবং জানার অপেক্ষায় সকলেই।

এরআগে- চুনারুঘাট থানায় দুই ছাত্রলীগ নেতাকে আটকের পর থানা হাজতে থাকা এক আসামিকে দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেন ওসি নুর আলম। অবাক করা বিষয় হলো টাকা দিতে না পরায় অন্য আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয় কিন্তু তার নামে কোনো মামলাই ছিল না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাটের দুই ছাত্রলীগ নেতাকে গত ২৩ মার্চ অভিযান চালিয়ে আটক করে থানা পুলিশ। ওই দুই নেতা হলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ফুল মিয়া খন্দকার মায়া এবং আরেকজন চুনারুঘাট আহাম্মদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল ইসলাম, পাশাপাশি ভিন পত্রিকার ভাষ্য মতে পেশায় একজন মাদক ব্যবসায়ী।

কিন্তু আটকের পরই নাটকীয়ভাবে থানা হাজত থেকে দুজনের মধ্যে ওয়াহিদুল ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং মায়াকে জেলে প্রেরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, থানার ওসি মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করে একজন প্রকৃত আসামিকে প্রকাশ্যে মুক্তি দিয়েছিলেন।

এখানেই শেষ নয়। আদালতে যাকে পাঠানো হয়, তিনি ছিলেন পুরোপুরি নিরপরাধ এবং তার নামে থানায় কোনো অভিযোগ কিংবা মামলা ছিল না।

স্থানীয় জনগণ বলছেন, থানার ভেতরে এ ধরনের অর্থ-বাণিজ্য ও দায়-দায়িত্বহীনতার ঘটনা শুধু আইনের শাসনকে ব্যাহত করছে না, বরং পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ধ্বংস করে দিচ্ছে। এটি নিছক একটি প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এটা অবশ্যই তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

চুনারুঘাটে এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। জনগণ চাইছে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে।

এ বিষয়ে ওসির লোভের শিকার ভুক্তভোগী মায়ার স্বজনরা জানান ছাত্রলীগ করার অপরাধে তাকে আটক করা হয়েছিল টাকা দিতে না পারায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি এমনকি থানায় বা কোর্টে তার নামে কোন মামলাও ছিল না।

এ বিষয়ে জানতে চুনারুঘাট থানার ওসি মো. নুর আলমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ওনার মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালে সুনামগঞ্জ শাল্লা থানায় ওসি নুর আলম থাকা অবস্থায় নারী সহকর্মীকে কুপ্রস্তাব *মাদক ও জুয়া থেকে মাসে কয়েক লাখ টাকা মাসোহারা *টাকা ছাড়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, এফআইআর কিছুই হতো না এজন্য গত (১২ আগস্ট ২০২১) তারিখের ৩৮৭/২০২১ নম্বর আদেশে ওসি মো. নুর আলমকে সেখান থেকে ক্লোজড করা হয়।

Leave a Reply