Topঅর্থনীতি

পাঁচ মাসে ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাব পেল বিডা

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ডলার প্রতি ১২২ টাকা ধরে প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

বিনিয়োগকারীদের থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোর প্রায় ২০ শতাংশ ইতোমধ্যেই অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছেছে। যার মধ্যে রয়েছে চুক্তি স্বাক্ষর, জমি ইজারা নিশ্চিতকরণ এবং বরাদ্দপত্র।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিডার কর্মকর্তারা বলছেন, এই ধাপে ধাপে বিনিয়োগ পাইপলাইন আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসে সম্ভাব্য মূলধন প্রবাহের একটি বাস্তববচিত্র তুলে ধরছে।

বিনিয়োগ প্রস্তাবের প্রবাহকে ইতিবাচক প্রবণতা হিসেবে উল্লেখ করে বিডার বিজনেস ডেভেলেপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, এ প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে এবং সরকারের শিল্পায়ন-প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করছে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল বিনিয়োগের পরিমাণ নয়, বরং এর মান ও স্থায়িত্বও নিশ্চিত করা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এবং প্রক্রিয়া আরও সহজতর হলে আগামী পাঁচ মাসে আরও কার্যকর ফলাফল বয়ে আনতে পারে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের প্রায় ৬০ শতাংশ বর্তমানে অনুসন্ধানী বা যথাযথ যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রাথমিক আলোচনা এবং প্রাথমিক প্রকল্প পরিকল্পনা।

রোচি বলেন, এটি বৃহৎ পরিসরের বিনিয়োগের জন্য একটি স্বাভাবিক ধারা। বিশ্বব্যাপী বেশির ভাগ প্রস্তাবই অনুসন্ধানী পর্যায় থেকে শুরু হয় এবং সঠিক সহায়তা পেলে ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হয়।

তিনি জানান, আরও প্রায় ২০ শতাংশ প্রস্তাব এখন গভীর পর্যালোচনায় রয়েছে, যা আনুষ্ঠানিক নথিপত্রের পূর্ববর্তী ধাপ।

বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে বেজা একটি ইউনিফাইড ইনভেস্টমেন্ট পোর্টাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে বেজার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী সদস্য মো. নজরুল ইসলাম বলেন, যেখানে বিনিয়োগের অগ্রগতি, জমির প্রাপ্যতা ও অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য এক প্লাটফর্মে পাওয়া যাবে। এ পোর্টাল বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে এবং প্রশাসনিক ফলোআপের সময় কমিয়ে আনবে।

পাশাপাশি এটি বিনিয়োগের বিভিন্ন ধাপের রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং সুবিধা দেবে, যা সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষকে আরও কার্যকরভাবে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply