ফেনীতে সোনাগাজী মডেল থানার মাত্র ৩০০ গজ দূরত্বে একটি শো-রুমের তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিভিন্ন ব্রান্ডের ৪৫০টি মোবাইল, ৫০টি হাতঘড়ি এবং নগদ ৫ লাখ টাকা লুট করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। থানার অদূরেই চুরির ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর কাউকে শনাক্ত করা গেছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বায়েজীদ হোসেন আকন বলেন, ‘আপনি যেটি দেখেছেন, আমিও সেটি দেখেছি। আমরা তদন্ত করছি।’
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ভোরে সোনাগাজী থানার পাশে অবস্থিত শেখ আকিলা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘মেসার্স ভাই ভাই ইলেকট্রনিকস’ এ ঘটনা ঘটে। ওই শো-রুমটি সবিবুল ইসলাম পলাশের মালিকানাধীন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোনাগাজী মডেল থানায় ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন তিনি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিনের মতো রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় ফিরেছিলাম। সকালে এসে তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পাই। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ৬ জনের একটি দল মার্কেটে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে দু’জন দোকানের ভেতরে ছিল, তারা ব্যাগে মালামাল ভরছিল। বাকিরা নিচে অবস্থান করছিল। এ ঘটনায় আমি মামলা করেছি।
ব্যবসায়ী পলাশের দাবি, চোরচক্রটি দোকান থেকে ৪০০টির বেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন, ৫০টি গ্রাহকের সার্ভিসিংয়ের মোবাইল, ৫০টি হাতঘড়ি এবং ক্যাশবাক্সে থাকা প্রায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। এদিকে চুরির ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘মার্কেটটি থানার এত কাছে, তবুও এমন চুরি ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত।’
সোনাগাজী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. নুর নবী বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছি, এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত চুরি। পাহারাদার ভোর ৬টা পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন, কিন্তু চুরি হয়েছে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে। সম্ভবত বাইরের চোরচক্র জড়িত।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি বায়েজীদ হোসেন আকন বলেন, চুরি ভোরবেলায় হয়েছে, তখন নাইট গার্ড থাকেন না এবং পুলিশ ধীরে ধীরে উইথড্র (ফিরতে) হতে থাকে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিসিটিভি ফুটেজে চোরদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি যেটি দেখেছেন, আমিও সেটি দেখেছি। আমরা তদন্ত করছি।






