চাকরি ফিরে পেতে আন্দোলনে নেমেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত চাকরিচ্যুত স্থানীয় শিক্ষকরা। তাদের সড়ক অবরোধের কারণে সোমবার সকাল থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা যাবৎ যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সড়কের দুই পাশে হাজারো যানবাহন আটকা পড়ে, সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ যানজট। সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সোমবার বিকেল) পরিস্থিতির কোনো সমাধান হয়নি। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষক বোরহান বলেন, সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। বাড়ি ফিরে যাব না।
নারী শিক্ষক আসমা খাতুন জানান, আমি ছয় বছর ধরে ক্যাম্পে পড়াচ্ছি। হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি।
আরেক শিক্ষক অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক নেতারা পাশে নেই। স্থানীয়দের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে। তা না হলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো এনজিও প্রকল্প চালাতে দেব না।
স্থানীয় শিক্ষকদের প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম শামীম বলেন, আমাদের দাবি একটাই, চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের পুনর্বহাল এবং ক্যাম্পে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হোক।
সড়ক অবরোধের কারণে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের দু’পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। অটোরিকশাচালক মোহি উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা ধরে আটকে আছি। আজ আর গাড়ি চালাব না। বাড়ি চলে যাচ্ছি।
ক্যাভার্ডভ্যান চালক ইদ্রিস বলেন, দেড় ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। দুর্ভোগের শেষ নেই। স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব জানান, দীর্ঘ ৩ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছি। গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুদ্দিন দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ তৈরি করা যাবে না। শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ের পথেই থাকতে হবে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আন্দোলনকারীরা জানান, অর্থ সংকটের কারণে দাতা সংস্থা ইউনিসেফসহ কয়েকটি এনজিও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১,২০০ জন স্থানীয় বাংলাদেশি শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করেছে। তাদের দাবি, বেতন বৃদ্ধির চাহিদার জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অথচ একই প্রকল্পে নিয়োজিত রোহিঙ্গা শিক্ষকরা এখনো বহাল রয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা সতর্ক করে বলেন, যদি দাবি মানা না হয়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।






