সারাদেশ

৩ হাজার পিস ইয়াবা কীভাবে ৪শ হলো? ডিবি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন?

গত ২২শে জুলাই বিকেলে চট্টগ্রামের কদমতলী মোড়ের এই রাস্তা দিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন পেশায় বাবুর্চি মোঃ জাকির হোসেন। এসময় ডিবি পুলিশের ৫১ নম্বর টিমের এস.আই. মোঃ মহসিন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে আটক করে। তবে মামলার এজাহারে এই স্থানের বদলে মতিয়ারপুলের এনাম এন্টারপ্রাইজের সামনে থেকে তাকে আটকের কথা বলা হয়েছে।

জাকিরকে তুলে নেওয়ার খবর পেয়ে তার বোন সাবিনা ছুটে যান মনছুরাবাদ ডিবি অফিসে। রাত ৮টা ২৬ মিনিটে গেটের সামনে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এসআই মহসিন, কনস্টেবল গিয়াস উদ্দিন এবং আজাদ রহমান। তাদের পক্ষ থেকে জাকিরের পরিবারকে জানানো হয়, ৩ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে তবে ১ লক্ষ টাকা দিলে পরিমাণ কম দেখিয়ে মামলা হবে আর ২ লাখে মুক্তি পাবে জাকির।

এখানেই শেষ নয়। রাত ৯টা ৪৭ মিনিটে ডিবি হেফাজতে থাকা জাকিরের মোবাইল থেকে ঘুষের টাকার জন্য সরাসরি ফোন করা হয় সাবিনাকে।

পরদিন ২৩ জুলাই ডিবি অফিসে গেলে তখনো ঘুষ দাবি করেন পুলিশ সদস্যরা। তবে ঘুষ না দেয়ার পরও ৪শ পিচ ইয়াবা দিয়ে মামলা দেয়া হয় জাকিরকে।

এখানেই জন্ম নেয় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পুলিশের দাবি করা ৩ হাজার পিস ইয়াবা কীভাবে এজাহারে ৪শ পিসে পরিণত হলো? আর পুলিশ যখন নিজেরাই বলছে ইয়াবার মূল হোতার নাম তাদের জানা আছে, তখন কেন তাকে মামলায় আসামি করা হলো না? তাহলে কি মূল হোতাকে আড়াল করে একজন নিরীহ মানুষকে ফাঁসানো হলো?

 ডিবি পুলিশের জব্দ তালিকায় মতিয়ারপুলের দুই দোকানদার মহসিন হোসেন রাজু ও এনামুল হককে সাক্ষী করা হয়েছে। কিন্তু তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এজাহার ও জব্দ তালিকার সাথে সাক্ষীদের কথার কোন মিল নেই। ঘটনার সময় প্রধান সাক্ষী ছিলেন নামাজে আর দ্বিতীয় সাক্ষী বলছেন, জাকির হোসেনকে দেখেননি, তবে দুজন আসামিকে আটক করতে দেখেছেন। মাদক চোখে না দেখলেও পুলিশ এসে পরে জানিয়েছে ৫শ পিস উদ্ধার হয়েছে। অবাক করার বিষয় হলো মামলায় দেখানো ঘটনাস্থল থেকে জাকিরকে আটক করা হয়নি।  সত্যতা নিশ্চিতে এই দুজন সাক্ষী ছাড়া আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলতে চাই।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন স্থানীয় দোকানদার জানিয়েছেন, ওইদিন দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।তবে জাকিরের চেহারার সাথে তাদের মিল নেই।আর তারা কেউ মাদক উদ্ধার হতে দেখেননি। জানতে চাইলে অভিযুক্ত কনস্টেবল আজাদ রহমান সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

মামলার এজাহার দায়েরকারী এসআই জয়নাল আবেদিন বলেছেন, “মতিয়ারপুল থেকেই জাকিরকে ৪শ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে।” কিন্তু এই অভিযান পরিচালনাকারী এসআই মহসিন উদ্দিন রুবেল, যার নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটেছে, তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রথমে “কিছু মনে নেই” বলে ফোন কেটে দেন। এরপর থেকে তার সাথে আর যোগাযোগ করা যায়নি।

 ডবলমুরিং থানাধীন বৌ বাজার এলাকার ছোট্ট একটি ঘরে গার্মেন্টসকর্মী স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন জাকির। টানাপোড়েনের সংসারে সন্তানরাও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন তাদের। হঠাৎ তাদের সুখের সংসারে অন্ধকারের কালো ছায়া নেমে আসায় দিশেহারা সবাই। জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা থাকলেও, স্থানীয়রা বলছেন, তিনি একজন বাবুর্চি হিসেবে পরিচিত এবং তাকে কখনো এ ধরনের কাজে যুক্ত থাকতে দেখেননি।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply