বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম—বরিতলী, বিলনোথার, নবীনগর, শইলমারি ও শান্তিনগরের মানুষ বাঙালি নদীর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং একটি কবরস্থান এখন হুমকির মুখে। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার ইতোমধ্যেই বাড়িঘর সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।
বরিতলী গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, আমার বাবা ও আমি মিলিয়ে সাতবার বাঙালি নদীর ভাঙনের শিকার হয়েছি। একটি পরিবার সাতবার ঘরবাড়ি হারালে তার আর কী থাকে? গত বছর পাঁচ বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। এবার দেখছি, আমার শেষ সম্বল বাড়িটাও হয়তো চলে যাবে।
বিলনোথার গ্রামের হোসেন আলী বলেন, আমার বাপ-দাদার অনেক জমি ছিল। আজকে আমরা জমিহারা। এই নদী আমাদের রাজত্ব ধ্বংস করে দিয়েছে, ফকির বানিয়ে দিয়েছে।
শইলমারির ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা আবুল ফজল জানান, ১৯৮৮ সালের পর থেকে আমি এই নদীর ভয়াবহ রূপ দেখেছি। আমার নানার বাড়ি ১২ বার নদীতে বিলীন হয়েছে। আমার মায়ের মুখে শুনেছি, কীভাবে পরিবার একের পর এক ভিটেমাটি হারিয়েছে। আমরা চাই এই নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর বরিতলী পয়েন্টে নদীভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ীভাবে একটি বাঁধ নির্মাণ করে। কিন্তু প্রতি বছর বর্ষা এলেই সেই বাঁধ ভাঙনের রোষ থেকে রক্ষা করতে পারছে না গ্রামগুলোকে।
স্থানীয়দের দাবি, ভাঙন প্রতিরোধে তড়িৎ এবং কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যেন ঘরবাড়ি, জমি ও জনজীবন রক্ষা পায়।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, শেরপুর উপজেলার বরিতলী গ্রামে বাঙালি নদীর ডান তীরে কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। শিগগিরই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।






