লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত পরিবারগুলো টিনের চাল, ভাঙা বেড়া ও দরজা-জানালাসহ জরাজীর্ণ ঘরে পলিথিন দিয়ে কোনোমতে বসবাস করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে বসবাসকারীদের। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় ঘরগুলো এখন বসবাসের অনুপযোগী। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ পানির অভাবে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ভোগ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর ভাঙন, অন্যদিকে চাল-চুলো-হীন জরাজীর্ণ অবকাঠামো। নেই শিক্ষা-স্বাস্থ্য কিংবা সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা। ২৫ বছরেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ না থাকায় মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত লক্ষ্মীপুর সদর নদীর পাড়ের একটি গুচ্ছ-গ্রামের দুই শতাধিক বাসিন্দা। বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় ১০টি পরিবারই ছেড়েছেন তাদের ঘর-বাড়ি। বাসযোগ্য বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বছরের পর বছর মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাকী ৩০টি পরিবারের প্রায় দেড় শতাধিক সুবিধা বঞ্চিত মানুষ।
আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা শাহাদাত উল্যা, আমাতুন নেছা, নুরুল ইসলাম, আবদুল বেপারী, নুরুল আমিনসহ অনেকের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই চাল ও বেড়ার অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। বৃষ্টির পানিতে নিজেরাও ভিজে যাই, সেই পানিতে ঘরে থাকা চাল, ডাল, শুকনো খাবারসহ জামা-কাপড়ও ভিজে যায়।
গৃহহীনদের আশ্রয়দান নিশ্চিত করার অভিপ্রায়ে ২০০১ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সেনাবাহিনী অধীনে লক্ষ্মীপুর সদরের চর রমনী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরীর হাট থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে মেঘনা নদীর পাড়ে নির্মিত টিন-শেড ব্যারাকে বসবাস করতে দেওয়া হয় ৪০টি পরিবারকে। উপকার-ভোগী পরিবারগুলোর প্রধান জীবিকা মৎস্য শিকার ও কৃষি কাজ। সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতে ওই গ্রামেই নির্মাণ করা হয় একটি স্কুল এবং যাতায়াতের জন্য রাস্তা। কিন্তু দীর্ঘ ২৫ বছরেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ না থাকায় দুর্গম চরে প্রতিষ্ঠিত এ সব বসতি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
চলতি বর্ষায় মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে রয়েছে গুচ্ছ-গ্রামের ঘরগুলো। ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রকল্পের পাশে থাকা গাছপালা। ভাঙন আতঙ্কে এখন দিনাতিপাত করছেন বাসিন্দারা। এদিকে নিকটবর্তী বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষা লাভের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়ে যাচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা শিশুরা।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামশেদ আলম রানা জানান, ‘চর রমনী মোহন ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের চলাচলের রাস্তাটি মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কে আমরা জানিয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা পরিষদ বরাদ্ধ পেলে চলাচলের রাস্তাটি এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরসহ সব কিছু সংস্কার করা হবে।’






