ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকায় আরও ৫৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আল-জাজিরাকে এই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রগুলো। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জন চরম খাদ্যাভাবের মুখে ত্রাণ সংগ্রহের সময় হামলার শিকার হয়েছেন।
এদিন সেন্ট্রাল গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলায় মারা গেছেন কমপক্ষে পাঁচজন, যাদের মধ্যে রয়েছে তিনজন শিশু। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজার আল-আওয়দা হাসপাতালের একটি সূত্র। হাসপাতালটি বলছে, আহতদের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ত্রাণ সংগ্রহের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর একের পর এক হামলা এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (WFP) জানিয়েছে, গাজায় এখন দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, এবং হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুর প্রান্তে।
নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের ঘটনা আরও হৃদয়বিদারক। এখানে নিহত শিশুদের বয়স ছিল ১০ বছরের নিচে। আল-আওয়দা হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “আমরা শিশুদের নিথর দেহ দেখতে দেখতে ভেঙে পড়ছি। এটা আর যুদ্ধ নয়, এটা এক নির্মম গণহত্যা।”
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুরো উপত্যকায় খাদ্য, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। অধিকাংশ হাসপাতালেই নেই বিদ্যুৎ, অস্ত্রোপচার চলছে মোমবাতির আলোয়। ইউনিসেফ বলছে, গাজায় শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি মহামারির আকার ধারণ করেছে এবং শত শত শিশু মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে।
অন্যদিকে, ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা, স্কুল ও হাসপাতালের ওপর বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও পশ্চিমা বিশ্ব কার্যত নীরব। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বারবার ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা বললেও ফিলিস্তিনিদের জীবন নিয়ে যেনো তাদের কোনো উদ্বেগ নেই।
চিকিৎসা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৫৬ জন নিহত ছাড়াও বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের অনেকে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৫৯ হাজার ছাড়িয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু।
সূত্র : আল আরাবিয়া






