সম্প্রতি গরমের তীব্রতার কারণে ঢাকা দক্ষিণ সিটির পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে, যেন মসজিদগুলো ও তার অজুখানা খোলা রাখা হয়, যাতে মানুষজন সেখানে আশ্রয় ও বিশ্রাম নিতে পারে। প্রশ্ন হলো, শরিয়তের দৃষ্টিতে এমনটি করার অবকাশ আছে কি? এককথায় উত্তর হলো, একান্ত প্রয়োজনে বিশেষ শর্ত রক্ষা করে মসজিদে আশ্রয় গ্রহণ ও বিশ্রামের অবকাশ আছে।
মনে রাখতে হবে, মসজিদের প্রধান উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই মসজিদগুলো আল্লাহর জন্য।
এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, মসজিদের উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদত। সুতরাং মসজিদে ইবাদতের পরিবেশ রক্ষা করা অপরিহার্য। যেহেতু মসজিদ নামাজ ও অন্যান্য ইবাদতের জন্য নির্ধারিত, তাই ইবাদত ও ইবাদতসংশ্লিষ্ট কাজের বাইরে অন্য কোনো কাজে তা ব্যবহার করা অনুচিত।
মসজিদে ঘুমানো বা বিশ্রামের ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো, ইতিকাফ ছাড়া সাধারণভাবে মসজিদে ঘুমানো পুরুষদের জন্য মাকরুহ। তবে মুসাফির বা মিসকিনদের জন্য (যাদের থাকার জায়গা নেই) অনুমোদন আছে। ইমাম কাসানি (রহ.) বলেন, ‘মসজিদে ঘুমানো যদি ইতিকাফকারী বা পথিক হয়, তাহলে কোনো দোষ নেই। অন্যথায় তা মাকরুহ (নিন্দনীয়), কারণ এতে মসজিদের সম্মান রক্ষা হয় না।’ (বাদায়েউস সানায়ে : ২/৮৯)
বাহরুর রায়েক গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘মসজিদে ঘুমানো সাধারণভাবে মাকরুহ, তবে ইতিকাফকারী ছাড়া।
উল্লিখিত আলোচনা থেকে বোঝা গেল, মসজিদকে শুধু নামাজের জায়গা মনে করেই ব্যবহার করা উচিত। তবে মানবিক প্রয়োজনে সাময়িকভাবে বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে।
সুতরাং সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের উচিত, গরমের তীব্রতা থেকে লোকদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার জন্য স্বতন্ত্র ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তা হওয়ার আগ পর্যন্ত সাময়িকভাবে মসজিদকে কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে মসজিদের মালপত্র ও আদব যেন সুরক্ষা হয়, সে ব্যাপারে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।






