কাফন তিন প্রকার—১. সুন্নত কাফন, ২. কেফায়া কাফন ও ৩ প্রয়োজনীয় কাফন। পুরুষের সুন্নত কাফন হলো—কামিজ, ইজার ও লেফাফা। (মুসলিম, হাদিস : ১৫৬৫, মুআত্তা মুহাম্মদ ২/৮৮)
পুরুষের কেফায়া কাফন হলো, ইজার ও লেফাফা। এর চেয়ে কম করা মাকরুহ।(বুখারি, হাদিস : ১১৮৬)
পুরুষের জন্য প্রয়োজনীয় কাফন হলো, প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ কাফন পা
ওয়া যায়। সেটা শুধু সতর ঢাকা পরিমাণই হোক না কেন। (বুখারি, হাদিস : ১১৯৭)
নারীদের সুন্নত কাফন হলো—লেফাফা, ইজার, কামিজ, ওড়না ও সিনাবন্দ। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৪৫)
নারীদের কেফায়া কাফন হলো, ইজার, লেফাফা ও ওড়না।(হেদায়া : ১/৮৯)
নারীদের জরুরি কাফন হলো প্রয়োজনের সময় যতটুকু পাওয়া যায়। উত্তম হলো সিনাবন্দ বক্ষ থেকে রান পর্যন্ত হওয়া। (বুখারি, হাদিস : ১১৯৭)
কাফনের কাপড় সাদা হওয়া উত্তম। (মুসলিম, হাদিস : ১৫৬৩)
ইজার মাথা থেকে পা পর্যন্ত হবে।(মুআত্তা মুহাম্মদ : ২/৮৮)
লেফাফা ইজার থেকে এক হাত লম্বা হবে। (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৬৯৩৭)
কামিজ কাঁধ থেকে পা পর্যন্ত হবে। কামিজে হাতা হবে না। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪৬০)
পুরুষকে কাফন পরানোর নিয়ম হলো—প্রথমে লেফাফা রাখবে, তারপর লেফাফার ওপর ইজার রাখবে, অতঃপর কামিজ রাখবে। এরপর মৃতকে এর ওপর রেখে প্রথমে কামিজ পরাবে।
অতঃপর ইজারকে বাম দিক থেকে চড়ানো, এরপর ডান দিক থেকে চড়ানো। এরপর বাম দিক থেকে লেফাফা মোড়ে দেওয়া, তারপর ডান দিক থেকে লেফাফা মোড়ানো। উভয় দিক থেকে কাফনকে বেঁধে দেওয়া। যাতে কাফন এলোমেলো না হয়ে যায়। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৪৫, বাদায়ে : ৩/২৫৮)
নারীদের কাফন দেওয়ার পদ্ধতি হলো—প্রথমে লেফাফা বিছাবে। লেফাফার ওপর ইজার, তার ওপর কামিজ বিছাবে। প্রথমে কামিজ পরাবে। চুলগুচ্ছকে দুই ভাগ করে সিনার দুই পাশে কামিজের ওপর রেখে দেওয়া। এরপর ওড়না মাথার ওপর রাখা। ওড়না পেঁচানোও যাবে না, বাঁধাও যাবে না। বরং শুধু রেখে দিতে হবে। এরপর ইজারকে প্রথমে বাম দিক থেকে, তারপর ডান দিক থেকে পেঁচিয়ে সিনার দিক থেকে বেঁধে দেওয়া। অতঃপর লেফাফা পেঁচিয়ে দেওয়া। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৩/২৫২, ২৬৪, আবু দাউদ ২৭৪৫)






