সৈয়দ খায়রুল আলম, নড়াইল প্রতিনিধিঃ
নড়াইলের লোহাগড়ায় সাংবাদিক অঙ্গনের পরিচিতি মুখ এশিয়ান টেলিভিশন, দৈনিক করতোয়া ও দৈনিক ভোরের দর্পণ পত্রিকার প্রতিনিধি কাজী আশরাফুল আলম সিদ্দিকীর জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টায় লোহাগড়া পৌরসভার আল মারকাজুল মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে সকাল ৮টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লক্ষ্মীপাশা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
কাজী আশরাফ নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার গোপিনাথপুর গ্রামের কাজী শামসুর রহমানের ছেলে।
এর আগে রোববার সকালে কাজী আশরাফ ও মাহমুদুল হাসান অনিক ব্যক্তিগত কাজে মোটরসাইকেলে করে লোহাগড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মনসুরাবাদ এলাকায় পৌঁছালে দোলা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে সাংবাদিক কাজী আশরাফ গুরুতর আহত হন। তার সঙ্গে থাকা মাহমুদুল হাসান অনিকও আহত হন। তাদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে আশরাফের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে তিনি মারা যান। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর। সে স্ত্রী, পিতা, মাতা, তিন কন্যা সন্তান রেখে গেছে।
জানাজায় জেলার সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
এদিকে লোহাগড়া উপজেলার কর্মরত সাংবাদিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষের মাঝে শেকের ছায়া নেমে আসে।
তারা শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
এছাড়াও লোহাগড়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকেরা কাজী আশরাফের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে আগামী বুধবার সন্ধ্যায় লোহাগড়া প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন কাজী আশরাফ শুরু থেকে সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা তৈরিতে আমার সাথে একযোগে কাজ করেছে, তার এভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাবে এটা মানতে ভিষণ কষ্ট হচ্ছে। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। পরকালে শান্তিতে রাখুন মহান আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।
