শেরপুর সদরে পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। হঠাৎ কুকুরের এমন বেপরোয়া আক্রমণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সদর উপজেলার ভাতশালা ও লছমনপুর ইউনিয়নে কয়েকটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা জানায়, মঙ্গলবার ভোর থেকে হঠাৎ করেই একটি পাগলা কুকুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে ছোটাছুটি শুরু করে। পথচারীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরটি সামনে যাকে পায় তাকেই কামড় ও আঁচড় দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এভাবে ভাতশালা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শতাধিক লোকজনকে কামড় দেয়।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে রক্তাক্ত হওয়া ক্ষতবিক্ষত রোগীদের ক্ষতস্থান সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে দ্রুত জলাতঙ্কের প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছিল। তবে জনবল সংকটের কারণে একজন সেবিকা (নার্স) ভ্যাকসিন দিচ্ছেন। এতে বিলম্ব হওয়ায় লাইনে আনসার সদস্যদের সঙ্গে হট্টগোল লেগে যাচ্ছে।
চিকিৎসা নিতে আসা চার বছর বয়সী শিশুর স্বজন আব্দুল আলিম বলেন, আমার বাচ্চাকে ভোর ছয়টায় কামড়িয়েছে। সাতটায় এখানে এসেছি। কিন্তু বেলা এগারোটা পার হয়ে গেছে, তবুও ভ্যাকসিন পাইনি। আর আনসার সদস্যরা আমাদের বের করে দিচ্ছেন।
একই অভিযোগ করেন রোকন নামের আরেক রোগীর স্বজন। তিনি বলেন, বাড়ির সামনে মেয়ে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, এমন সময় হঠাৎ পেছন থেকে এসে কুকুরটি পিঠে আঁছড় দেয়। সকাল আটটায় এসেছি, এখন বারোটা বাজে। তবুও ভ্যাকসিন পাইনি। নার্স বাইরে চলে গেল। প্রতিবাদ করলে আনসার সদস্যরা ঝগড়া করে। এভাবে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না।
লছমনপুরের দড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেকান্দর আলী বলেন, দ্রুত কুকুরটিকে চিহ্নিত করে আটক বা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে গ্রামে লোকজনের চলাচল সম্পূর্ণ অনিরাপদ হয়ে পড়বে। বিশেষ করে স্কুলগামী বাচ্চা ও কৃষকদের।
হাসপাতালের ভ্যাকসিন কক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যমতে, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাগলা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ৫০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বাকিদের পর্যায়ক্রমে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে।
শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সবাইকে সরকারের দেওয়া ভ্যাকসিন বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। আমাদের জনবল সংকট। তাই লাইন একটু দীর্ঘ হয়েছে। সেখানে আরও কয়েকজনকে ভ্যাকসিন প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশাকরি, দ্রুত সময়েই সবাই ভ্যাকসিন পাবে।






