সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থেকে অপহরণের শিকার মানসিক ভারসাম্যহীন মো. নূর আলমকে (৫৭) দীর্ঘ দুই বছর পর ঢাকার মিরপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিরাজগঞ্জ জেলা।
পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাঁর দুই ভাতিজাসহ কয়েকজন তাঁকে অপহরণ করে আটকে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ মার্চ সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানাধীন এনায়েতপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন নূর আলম। এ ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই মো. আব্দুস সালাম (৪৬) বাদী হয়ে নূর আলমের দুই ভাতিজা মো. মাসুদ হাসান রাশেদ, মো. আরিফুল হাসান জিমসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত প্রথমে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) করলেও ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট মামলাটির তদন্তভার পিবিআই সিরাজগঞ্জ জেলার ওপর ন্যস্ত করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিএসআই (নিঃ) মো. আবু তালেব।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৬ অক্টোবর রাতে ঢাকার মিরপুর মডেল থানাধীন জোনাকি রোডের মিরপুর-২ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নূর আলমকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন পিবিআইয়ের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ওই বাসাটি মামলার দুই অভিযুক্তের মা রোজিনা বেগমের বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে নূর আলমের পৈতৃক সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন তাঁর ছোট ভাই আব্দুস সালাম। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সম্পত্তি নিজেদের দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নূর আলমকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।
উদ্ধারের পর নূর আলমকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে তাঁর ছোট ভাই ও মামলার বাদী আব্দুস সালামের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।






