রাজধানী

রাড্ডা হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার পাপেলের, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

 রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পাপেলের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হোক; অপপ্রচার নয়, প্রকৃত তথ্য সামনে আসার আহ্বান

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাকে জড়িয়ে প্রচারিত অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে পাপেল বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের তিনি তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে ঘটনায় তাকে জড়িয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

পাপেলের সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের অনেকে তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় এবং দলীয় ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত একজন হিসেবে বর্ণনা করেন। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত বিরোধের ভিত্তিতে নয়, বরং তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে বিষয়টি নির্ধারণ করা উচিত।

তাদের বক্তব্য, পাপেল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকায় তার পরিচিত মহলে অনেক রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার পরিবর্তে প্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

পাপেলের দাবি, একটি মহল তার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এবং নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালিয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া সরাসরি অভিযোগ না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার সময় একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে পাপেলসহ কয়েকজন রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান করে হামলাকারীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে পাপেল এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

পাপেলের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকায় ছিলেন না। ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তিনি জানতে পারেন, তার মায়ের সহোদর বোন ঢাকা সিএমএইচে মারা গেছেন। এরপর স্ত্রী, সন্তান, মায়ের আরেক বোন ও মামিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পান্থপথ থেকে ঢাকা সিএমএইচের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

তিনি জানান, জাহাঙ্গীর গেট দিয়ে সেনানিবাসে প্রবেশ করে সামরিক পুলিশের অনুমতি নিয়ে সিএমএইচে যান। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মরদেহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর মরদেহ মরচুয়ারিতে রাখা হয়। পরে আনুমানিক রাত ৩টা থেকে সোয়া ৩টার দিকে তারা সিএমএইচ থেকে ফিরে আসেন।

নিজের অবস্থানের দাবির পক্ষে যাচাইযোগ্য তথ্য রয়েছে উল্লেখ করে পাপেল বলেন, জাহাঙ্গীর গেট ও সেনানিবাস এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, সিএমএইচে প্রবেশ ও অবস্থানের রেকর্ড, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য এবং আইনসম্মতভাবে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের লোকেশন ও প্রযুক্তিগত তথ্য পরীক্ষা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

সংবাদ প্রকাশের আগে তার বক্তব্য নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাপেলের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম থেকে তাকে ফোন ও মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কর্মব্যস্ততা ও পারিবারিক শোকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় তিনি সময়মতো সেগুলো দেখতে বা উত্তর দিতে পারেননি। ফলে প্রতিবেদনে তার বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

‘সাদা মাইক্রোবাসে তিনি ছিলেন’—এমন দাবির উৎস ও প্রমাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পাপেল। কোনো প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি কিংবা তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে এই দাবি করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।

পাপেল বলেন, তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; তিনি চান সত্য প্রকাশিত হোক। তিনি অপরাধী হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্দোষ হলে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের আইনগত প্রতিকার চান।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী, অর্থ বা অস্ত্র-সরঞ্জাম সরবরাহকারী এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের জড়ানোর সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তার উপস্থিতি ও সম্পৃক্ততার দাবির উৎস, প্রমাণ এবং যাচাইপ্রক্রিয়াও পরীক্ষা করার আহ্বান জানান পাপেল।

তিনি বলেন, গুজব নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য নির্ধারণ করা উচিত। প্রকৃত হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে হয়রানি বা মানহানি করা উচিত নয়।

মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল বলেন, তিনি সত্যের পক্ষে রয়েছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।

নিউজ ডেস্ক:

Leave a Reply