সারাদেশ

আখাউড়ায় ফসলি জমি গ্রাসকারী ভূমিদস্যুদের ড্রেজার সাম্রাজ্যে প্রশাসনের হানা!

এক কিলোমিটার পাইপ বসিয়ে ফসলি জমি-পুকুর ভরাটের অভিযোগ, ধ্বংস করা হলো দুই হাজার ফুট ড্রেজার পাইপ
 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানে প্রায় দুই হাজার ফুট অবৈধ ড্রেজার পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধরখার ইউনিয়নের ছতুরা ঈদগাহপাড়া এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার অবৈধ ড্রেজার পাইপ বসিয়ে জলাশয়, পুকুর ও ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছিল। এতে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছতুরা ঈদগাহপাড়া এলাকায় দীর্ঘ পাইপলাইন বসিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি উত্তোলন ও বিভিন্ন স্থানে ভরাটের কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর ১৬ আগস্ট, রবিবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
অভিযানে প্রায় দুই হাজার ফুট অবৈধ ড্রেজার পাইপ ধ্বংস করা হয়। তবে অভিযান পরিচালনার সময় অবৈধ ড্রেজার পরিচালনাকারী কিংবা মালিকপক্ষের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, “আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন, ইউএনও মহোদয়সহ আমরা সার্বক্ষণিকভাবে এই অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। অবৈধ ড্রেজারের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্সে কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যেই কসবা-আখাউড়ার মাননীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান স্যার এসব অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই ঘোষণা করেছেন, কসবা-আখাউড়ায় কোনোভাবেই ফসলি জমি বিনষ্টকারী অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে ফসলি জমি নষ্ট করার সুযোগ কোনো ভূমিদস্যুকে দেওয়া হবে না।” তিনি বলেন, “এই ধারাবাহিকতায় আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এই ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখব। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং ফসলি জমিতে চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেচব্যবস্থা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।” অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে কি না জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সার্বক্ষণিকভাবে এই অভিযান অব্যাহত রাখব। যখনই কোথাও অবৈধ ড্রেজার পরিচালনার খবর পাওয়া যাবে, আমরা তাৎক্ষণিকভাবেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
” স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার মাধ্যমে ফসলি জমি, পুকুর ও জলাশয় ভরাট করা হলে একদিকে যেমন কৃষিজমি কমে যায়, অন্যদিকে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্যও নষ্ট হয়। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর অভিযান চান স্থানীয়রা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে এবং কোথাও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply