শতবর্ষী বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ শতাংশের মাঠ খেলাধুলার অনুপযোগী—আহত হওয়ার শঙ্কায় শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়রা; দ্রুত সংস্কারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও ক্রীড়াপ্রেমীরা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের কুটি অটলবিহারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অযত্নে পড়ে থাকায় বর্তমানে ধ্বংসের মুখে। সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠজুড়ে পানি ও কাদা জমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে। এতে মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার পাশাপাশি কাদামাটিতে খেলতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শতবর্ষী ঐতিহ্যের এই বিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রায় ১০০ শতাংশ আয়তনের ফুটবল মাঠজুড়ে কাদা ও পানি জমে রয়েছে। মাঠের চারপাশে উঁচু স্থাপনা থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সরে যেতে পারছে না। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে পানি জমে থাকছে। মাঠের এমন বেহাল অবস্থার কারণে স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা করা তো দূরের কথা, অনেক জায়গায় হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ফুটবল খেলার আয়োজন করলেও মাঠের করুণ অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়েই খেলতে দেখা যায়। অতিরিক্ত কাদা ও পানির কারণে খেলোয়াড়রা দৌড়ানোর সময় পিছলে পড়ে যেকোনো মুহূর্তে আহত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুটি ইউনিয়নে খেলাধুলার জন্য এই মাঠটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাঠটির প্রতি যথাযথ নজর না থাকায় বর্তমানে এর স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের দাবি, মাঠটি দ্রুত সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করে তোলা হোক।
এ বিষয়ে কথা হয় কুটি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উজ্জল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, “এই মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। কুটি ইউনিয়নে খেলাধুলার জন্য আর কোনো উল্লেখযোগ্য মাঠ নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে কসবা-আখাউড়ার সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান স্যারকে বিষয়টি অবগত করেছি। পাশাপাশি আপনাদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল ইসলাম স্যারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”

বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মমিনুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশ ও শারীরিক সুস্থতার জন্য খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মাঠের বর্তমান অবস্থার কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা করতে পারছে না। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন দ্রুত মাঠটি খেলাধুলার উপযোগী করে তোলার ব্যবস্থা করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মাদককে না বলি, খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলি। একটি সুন্দর সমাজ গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে মাঠটির দিকে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের ভাষ্য, কুটি ইউনিয়নের তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ থাকলেও ভালো মাঠের অভাবে তারা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একটি আধুনিক ও নিরাপদ খেলার মাঠ থাকলে এখানকার অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারবে।
সমাজ ও ক্রীড়া নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, শিক্ষার্থীদের মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি বিদ্যালয়ের মাঠ শুধু শিক্ষার্থীদের খেলার জায়গা নয়, এটি একটি এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশেরও অন্যতম কেন্দ্র। তাই মাঠটি দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে এনে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ক্রীড়াপ্রেমীরা কসবা উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগে কুটি অটলবিহারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী মাঠটি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এবং শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য নিরাপদ খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।






