সারাদেশ

ফাহিমার রহস্যজনক মৃত্যু: কনটেন্ট ক্রিয়েটর মুত্তা ইব্রাহিমসহ ৮জনের বিরুদ্ধে মামলা

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ইকরতলী গ্রামে পন্ডিত মিয়ার বসতবাড়ি থেকে ফাহিমা নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠলেও পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফাহিমা ও তার স্বামী সুজনের দাম্পত্য জীবন শুরুতে স্বাভাবিক ও সুখের ছিল। তবে প্রায় এক বছর আগে মুক্তা-ইব্রাহিমের তথাকথিত ‘স্বপ্নের বাড়ি’-তে সেলিনা নামে এক স্বামী পরিত্যক্ত নারী কাজের লোক হিসেবে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় থেকেই সুজনের সঙ্গে সেলিনার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বিষয়টি জানাজানি হলে ফাহিমার দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে সেলিনাকে ওই বাড়ি থেকে বিদায় করার সিদ্ধান্ত হলেও পরে জানা যায়, সুজন সেলিনাকে বিয়ের উদ্দেশ্যে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করেন।

এ ঘটনার পর ফাহিমার পারিবারিক অশান্তি আরও বাড়ে। ফাহিমার অভিযোগ ছিল, কয়েক মাস ধরে তার স্বামী তার সঙ্গে কথা বলতেন না এবং ঠিকমতো ভরণপোষণও দিতেন না। বিষয়টি নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন স্থানীয় কয়েকজন মুরুব্বি। ফাহিমার বাবা নুরুল হক তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে অপেক্ষা করছিলেন।

এর মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। ফাহিমার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

চুনারুঘাট থানার পুলিশ জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে এটি হত্যা না আত্মহত্যা—সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সাংবাদিকরা ঘটনাটি অনুসন্ধান করছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং কেউ দোষী হলে তার বিচার নিশ্চিত হবে, আর নির্দোষ কেউ হলে ন্যায়বিচার পাবে।

Leave a Reply